অনলাইন ডেস্কঃ সোনাহাট স্থলবন্দর কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গোলকগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে ১০টির মতো পাথরবাহী ট্রাক সোনাহাট স্থলবন্দরে এসেছে। ট্রাক আসা অব্যাহত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কোনো মালামাল যায়নি।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক (ট্রাফিক) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী শুক্রবার (২৩ জুলাই) বাদে সপ্তাহের ছয় দিন বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গোলকগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম চলে।

তিনি আরও জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরে ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের হেলপাররা আসেন না। আর চালকদের নামতে দেওয়া হয়না। তারা পণ্য খালাস করার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক নিয়ে ফিরে চলে যান।

এর আগে ঈদ উদযাপনের জন্য সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে গত ২০ জুলাই থেকে গত ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

গত ১৭ জুলাই সোনাহাট স্থলবন্দর কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সোনাহাট স্থলবন্দর শুল্ক ষ্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দর কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরকার রকীব আহমেদ জুয়েল জানিয়েছিলেন, স্থলবন্দর বন্ধের বিষয়টি সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক), বিজিবি’র সোনাহাট ক্যাম্পের কমান্ডার, সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতি ও এই স্থলবন্দরের উল্টো দিকে অবস্থিত ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গোলকগঞ্জ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছিল।

ছুটি শেষে চলতি মাসের ২৫ জুলাই থেকে বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি যথারীতি শুরু হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে গত এক বছরে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় ব্রিটিশ আমলে সোনাহাট স্থলবন্দরটি বিখ্যাত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ছিল। এই স্থলবন্দরটি ভারতের আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

এ বন্দর দিয়ে ভারত, আসাম ও নেপাল হতে কয়লা, কাঠ, টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বল ক্লে, কোয়ার্টজ, রাসায়নিক সার, কসমেটিক সামগ্রী, পশুখাদ্য, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, বিভিন্ন ধরনের বীজ, তামাক ডাটা প্রভৃতি মালামাল আমদানি করা হয়।

প্রতিদিন এই স্থলবন্দরে ভারতের গোলকগঞ্জ হতে গড়ে ৮০-১০০টি ট্রাক পাথর এবং কয়লা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এই বন্দরকে ঘিরে অবকাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে ১০টি পণ্য আমদানির জন্য অনুমতি রয়েছে এবং নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতিরেকে বাংলাদেশি সকল পণ্য রপ্তানির অনুমতি রয়েছে। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here