অনলাইন ডেস্কঃ ঈদের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ছিল ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। কঠোর বিধিনিষেধের কয়েক ঘণ্টা আগেও লোকে লোকারণ্য ছিল কাউন্টারগুলো। শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার টিকিট মিললেও সময়মতো বাস না ছাড়ায় অনেককে পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

গভীর রাতে নগরীর বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখে মনে হতে পারে ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার তোড়জোড়।

কিন্তু না; করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধে ১৪ দিন বন্ধ থাকছে প্রায় সবকিছুই। ঈদের পরের রাতেও তাই উপচেপড়া ভিড় রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে।
কঠোর বিধিনিষেধের ফাঁদে নগরীতে অলস সময় কাটানোর চেয়ে পরিবারের সঙ্গে থাকতেই শেষ মুহূর্তে রাজধানী ছাড়েন সাধারণ মানুষ। অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়ায় ছাড়েন কর্মব্যস্ত এই শহর।
শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া এক যাত্রী বলেন, ১৪ দিনের যে লকডাউন দেয়া হয়েছে, তাতে ঢাকাতে চলতে কমপক্ষে তিন হাজার টাকা প্রয়োজন, এই তিন হাজার টাকা আমাকে কে দেবে? এর চেয়ে ভালো গ্রামে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ডাল-ভাত খেয়ে অন্তত বেঁচে থাকতে পারব।
লকডাউনে ঘরে ফেরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লকডাউনে সব কিছু বন্ধ থাকবে। যানবহনও চলবে না। তাই রাজধানী আটকে পড়ার চেয়ে আগেভাগেই গ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটছেন তারা।
ঈদের ছুটিতে কেউ কেউ এসেছিলেন পরিবারের সঙ্গে উৎসবে যোগ দিতে। কিন্তু সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ছোটেন ঢাকার বাইরে নিজ কর্মস্থলে।
ছুটিতে ঢাকায় আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে পরদিনই কর্মস্থলে ছুটলেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আমার জব স্টেশন পটুয়াখালিতে। লকডাউনে কর্মস্থল ছেড়ে আসা যাবে না, তাই ঈদের পরদিনই চলে যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ফিরতি বাস এসে না পৌঁছানোয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারের সামনে বসে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের, পড়তে হয় দুর্ভোগে। কাউন্টারের কর্মচারীরা বলেন, সড়কে যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়া যায়নি।
গাবতলী দিগন্ত পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, আমিনবাজারে জ্যাম থাকায় গাড়ি পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। দুই-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি পৌঁছাতে দেরি করছে।
অন্যদিকে সংখ্যায় কম হলেও কঠোর বিধিনিষেধ শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ঢাকায় ফিরতে দেখা যায় কর্মজীবী মানুষদের। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here