অনলাইন ডেস্কঃ দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে বিরল রোগ ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। শুধু ভারতেই এই রোগে চার হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিরল এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার। ভয়াবহ এই রোগটিকে এরইমধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা করেছে ভারত।

করোনা চিকিৎসায় স্টেরয়েডের অপব্যবহারে এই ছত্রাকে আক্রান্তের হার বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ডায়াবেটিকসের রোগীদের ঝুঁকি একটু বেশিই বলেও জানান তারা।

মহামারি করোনার মধ্যেই ভারতীয় ডেল্টাসহ কোভিডের বিভিন্ন ধরনে বিপর্যস্ত পুরো ভারত। এরমধ্যেই মহামারি আকার ধারণ করেছে বিরল ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। যে হারে দেশটির মানুষ এই ছত্রাকে আক্রান্ত হচ্ছেন তাতে এটিকে আর বিরল রোগ বলতে নারাজ অনেকে। ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাভিয়া জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৫ হাজার ৩৭৪ জনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে হয়েছে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের।

রাজধানী দিল্লি ছাড়াও তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, ঝাড়খণ্ডসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে কালো ছত্রাক ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত এক হাজার ৭৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার পাশাপাশি এরইমধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা করেছে ভারত।

মাটি, গাছপালা, পচনশীল ফলমূল ও শাকসবজিতে এই ছত্রাকের দেখা পাওয়া গেলেও কোভিড থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা আক্রান্ত হচ্ছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকরমাইকোসিসে। মুখের পাশাপাশি নাক, চোখ ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের। এতে আক্রান্ত হলে সাইনাসের ব্যথা, এক নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথার এক পাশে ব্যথা, দাঁতে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এমনকি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তরা দৃষ্টিশক্তিও হারাতে পারেন।

ভারতের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস জানিয়েছে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ মস্তিষ্ক ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ারও প্রমাণ পাওয়া গেছে। করোনা পজিটিভ ডায়াবেটিকসের রোগীদের এই ছত্রাকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বিশেষত স্টেরয়েডের অপব্যবহার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কোভিড থেকে সেরা ওঠার ১২ থেকে ১৮ দিন পরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে বেশি দেখা গেছে। সংক্রমিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পরে রোগীর মৃত্যু হয়।

তবে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হিসেব দেখানো হয়েছে বাস্তবে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বলে দাবি করেছেন ভারতের একাধিক চিকিৎসক। প্রত্যন্ত এলাকার হাসপাতালগুলোয় ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্তের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক রোগীই হিসেবের বাইরে থাকছেন। শনাক্তের আগেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলেও মনে করেন চিকিৎসকরা। ছত্রাক প্রতিরোধী ইনজেকশনই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের একমাত্র চিকিৎসা। সে কারণে এর ওপর জোর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here