অনলাইন ডেস্কঃ ঈদকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও নানাভাবে বুধবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজধানী থেকে ব্যক্তিগত ও ভাড়া যানবাহনে ঘাট এলাকায় জড়ো হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

করোনার সংক্রমণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফেরি পার হচ্ছেন মানুষ। রাজধানী ছেড়ে আসা মানুষ ছোট ছোট যানে ভেঙে ভেঙে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আসছে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ায়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বুধবার যাত্রী ও যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। পদ্মাপাড়ে ছুটে আসতে যেন মরিয়া হাজার হাজার মানুষ। নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন তারা।বিআইডব্লিউটিসির ঘোষণা অনুযায়ী পণ্যবাহী ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পরিষেবার যান ছাড়াও সমানে পার হচ্ছে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

মাওয়া নৌপুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ মো. সিরাজুল কবির জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ভিড় ততই বাড়ছে শিমুলিয়া ঘাটে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে চেকপোস্ট থাকার পরও কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না জনস্রোত। বৃহস্পতিবার থেকে এ রুটে লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল শুরু হচ্ছে। ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পদ্মা পাড়ি দিতে পারে সে জন্য কাজ শুরু হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহম্মেদ আলী জানান, শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে পদ্মার প্রবল স্রোতে মোকাবিলা করে বহরের ১৭ ফেরির মধ্যে চলতে পারছে ১৩টি। ২৪ দিন বন্ধ ধাকার পর এই রুটে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হবে।

বুশড়া রাধানী ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। তিনি জানান, স্বামী গ্রামে অসুস্থ অবস্থায়। আবার ঈদ সামনে। গার্মেন্টসও বন্ধ। তাই রাজধানী ছেড়ে যাচ্ছেন। পথে পথে নানা বিড়ম্বনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়েছে। ভাড়া লাগছে চার গুণ।সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে কেনো এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে আমার স্বামীর শরীর অসুস্থ তাই যেতেই হবে। লকডাউন শিথিল হলে ভিড় বাড়বে সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই যাচ্ছেন।

খুলনাগামী হরলাল দাস বলেন, পথে পথে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে আর কষ্ট তো আছেই। হরলাল ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি বাড়িতে কেয়ার টেকারের কাজ করেন। আজ সকাল ৮টায় তার বাবা মারা গেছেন। তাই লকডাউনের মাঝেও ফিরতে হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে হলেও বাড়ি যেতে হবে।

ঢাকার রাস্তায় গাড়িচালক আব্দুল হান্নান পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে শরীয়তপুর যাচ্ছেন শিমুলিয়া ঘাট হয়ে। বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন শিথিল হবে তাই ভিড় এড়াতে একদিন আগেই যাচ্ছেন বাড়িতে। গত ঈদুল ফিতরে প্রচুর ভিড় থাকায় এবার ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে যাওয়া। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here