অনলাইন ডেস্কঃ ইতিহাস গড়লো সুইজারল্যান্ড। প্রথমবারের মতো ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো পেতকোভিক বাহিনী। টাইব্রেকে তারা ফ্রান্সকে হারালো ৫-৪ গোলে। গোল মিস করে ভিলেন হয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিন বছরে দেখে ফেললেন জীবনের উত্থান-পতন দুটোই। রাশিয়াতে বিশ্বকাপ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেও, আজ নিজের পায়ে ফ্রান্সের ইউরো স্বপ্ন ধুলিষ্যাৎ করে দিলেন এক ঝটকায়। তাই তো বিষাদ বদনে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন তখন দুয়ো ধ্বণিতে ভরে যায় পুরো বুখারেস্ট।এন্টারটেইনমেন্ট কত প্রকার ও কি কি? সংজ্ঞা, উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিলো বুখারেস্ট। একের পর এক গোল আর নাটকীয়তায় ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো এ ম্যাচটি যারা দেখেননি, তাদের আফসোস থাকবে দীর্ঘদিন। এই রাতটা যে ছিলো আনন্দদায়ক ফুটবলের।

৯০ মিনিটের পর ইনজুরি সময়ে এই শটটা যখন ফিরে এলো ক্রসবারে লেগে, তখনই বুঝা গিয়েছিলো দিনটা হয়তো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নয়। না হলে কোম্যান কেন থাকবেন বিমর্ষ।

তার কিছুক্ষণ আগেই যে পুরো ম্যাচটাকে উল্টেপাল্টে দিয়েছিলেন গ্যাভ্রানোভিচ। পরিষ্কার পরাজয়ের চোখ রাঙানো থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে এসে দলকে বাঁচিয়ে দেন ত্রিশ মিনিটের জন্য। ৩-৩ গোলের সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড।

খেলার শুরুর গল্পটাও ছিলো অনেকটা একইরকম। ১৫ মিনিটে সুইস ম্যাজিক দেখে বুখারেস্ট। জুবেরের দুর্দান্ত ক্রস থেকে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন সেফেরোভিক। স্তব্ধ হয়ে যায় ফরাসীরা, আনন্দে উদ্বেলিত সুইজ্যারল্যান্ড।

গোল খেয়ে আহত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ফ্রান্স। কিন্তু, বিরতি থেকে ফিরতে না ফিরতেই ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। যদিও, হুগো লরিসকে বোকা বানাতে পারেননি রিকার্ডো রদ্রিগেজ। তবে, পালটা আক্রমণে সোমারকে ঠিকই নাকানি চুবানি খাওয়ান করিম বেনজামা। বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখে বুখারেস্ট। ম্যাচে জোড়া গোলের সঙ্গে পূরণ করেন নীল জার্সিতে জিদানের সমান ৩১ গোলের মাইলফলক। আর ৭৫ মিনিটে পুরো মাঠকে অবাক করে দেন পল পগবা। বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে ব্লু’দের হয়ে তৃতীয় গোল করেন তিনি।

কিন্তু বেনজামাকে চ্যালেঞ্জ দিতে এদিন মাঠে ছিলেন সেফেরোভিক। ৮১ মিনিটে নিজের জোড়া গোলের সঙ্গে, ব্যবধান কমান এ সুইস।

সমতায় থাকা ম্যাচটা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তবে নিষ্ফলা যায় ৩০ মিনিট। ফলাফল, টাইব্রেক।

স্পট কিকে একে একে স্কোর করেন দুই দলের চারজন। ভার্গাসের শট একবার লরিসের হাতে লাগলেও, গোল বঞ্চিত করা যায়নি সুইসদের। এরপর পঞ্চম শট নিতে আসেন মেহমেদি। লরিসকে সহজেই বোকা বানান তিনিও। কিন্তু ফ্রান্সের হয়ে এই কাজটা করতে পারেননি কিলিয়ান।

হিরো বনে যান ইয়ান সোমার আর ভ্লাদিমির পেতকোভিক। চ্যাম্পিয়নদের পর রানারআপদেরও বিদায় হয় দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here