অনলাইন ডেস্কঃ হার্শা ভোগলের টুইট, ‘ব্যাট হাতে রশিদ খানকে দেখে কি নেটের সামনে লিয়েন্ডার পেজকে মনে পড়ে? হাত দুটোর এত গতি…।’

লিয়েন্ডার পেজ ভারতের টেনিস কিংবদন্তি। ডাবলসে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম জয়েরই অভিজ্ঞতা আছে, নেটের সামনে তাঁর খুব দ্রুত খেলা এখনো মনে পড়ে অনেকের। ভোগলে ঠিক এখানেই লিয়েন্ডারের সঙ্গে রশিদ খানের মিল পাচ্ছেন। চার-ছক্কা মারার মেজাজে থাকতে রশিদ খানের ব্যাটের (স্পিড) গতি চমকে দিতে পারে। এমনকি ‘হেলিকপ্টার শট’ খেলার সময় খুব দ্রুত গতিতে ব্যাট ঘোরান আফগানিস্তানের এই লেগ স্পিনার। দুঃখিত, অলরাউন্ডার। কাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে শেষ ওভারে ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পর রশিদ নিজেই বলেছেন, ‘আশা করি, এখন হয়তো কারও কাছ থেকে অলরাউন্ডার স্বীকৃতি পেতে পারি।’

মজার বিষয়, কাগজে-কলমে না হলেও প্রতিপক্ষ ও ভক্তদের কাছে রশিদ বেশ আগেই এই স্বীকৃতি পেয়ে গেছেন। নইলে আইপিএলে রশিদের ১৪৭.৯৮ স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কোনো কারণ থাকার কথা নয়। কাল যেমন জয়ের জন্য শেষ ওভারে ২২ রান দরকার ছিল গুজরাট লায়নসের। রাহুল তেওয়াতিয়ার এক ছক্কার পর রশিদ নিজে মারেন তিন ছক্কা। সেটিও হার্শা ভোগলের সেই ‘কুইক হ্যান্ডস’কৌশলে। আইপিএলে শেষ ওভারে সফল রান তাড়ায় তিন ছক্কা মারার নজির খুব বেশি ব্যাটসম্যানের নেই—২০১৬ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনি, ২০২০ সালে অক্ষর প্যাটেল এবং এই মৌসুমে রশিদ খান। আইসিসি তাই টুইটেই স্বীকৃতিটা দিয়ে দিয়েছে, ‘ব্যাট ও বল হাতে সত্যিকারের ম্যাচ উইনার।’কে আবার, লেগ স্পিনে তারকাখ্যাতি পাওয়া রশিদ খান!

কাল গুজরাটকে জেতানোর পর নিজের ব্যাটিং নিয়ে কথা বললেন রশিদ খান, ‘আমি শুধু নিজের খেলাটা খেলার চেষ্টা করেছি। নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর আস্থা ছিল, যেটা নিয়ে দুই বছর কাজ করছি।’ শেষ ওভারে যখন ২২ রান দরকার, তখনকার পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন এই তারকা, ‘তেওয়াতিয়াকে বলেছি, নিজেদের সেরা বোলার ফার্গুসনকে ব্যবহার করেও শেষ ওভারে আমরা ২৫ রান দিয়েছি। তাই শুধু আত্মবিশ্বাসটা রাখতে হবে। একটা ডেলিভারি মারতে না পারলে দুশ্চিন্তা করা যাবে না। ঠান্ডা মাথায় খেলাটা শেষ করতে হবে কিংবা যতটা কাছাকাছি সম্ভব যেতে হবে। তাতে রানরেটে অন্তত সুবিধাজনক জায়গায় থাকব। সৌভাগ্যক্রমে আমরা চারটি ছক্কা মারতে পেরেছি।’ শেষ পর্যন্ত রশিদের ১১ বলে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসে জিতেছে গুজরাট।

মজার বিষয়, সানরাইজার্সের ইনিংসে শেষ ওভারে চার ছক্কা ও ১ রান মিলিয়ে মোট ২৫ রান দেন নিউজিল্যান্ডের পেসার লকি ফার্গুসন। গুজরাটও নিজেদের ইনিংসে ২২ রান তাড়া করতে নেমে ২৫ রান তুলেছে চার ছক্কা ও ১ রান নিয়ে!

তবে কাল বল হাতে ভালো করতে পারেননি রশিদ। ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪৫ রান। আইপিএলে এই প্রথমবারের মতো ৪ ওভারের কোটায় ওভারপ্রতি গড়ে ১০–এর বেশি রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকলেন এই লেগ স্পিনার। অর্থাৎ, কাল বোলার ছাপিয়ে রশিদের ব্যাটসম্যান-সত্তাই গুজরাটের জয়ে ‘নিউক্লিয়াস’। টি-টোয়েন্টিতে যে ক্রিকেটারের ব্যাট হাতে স্ট্রাইকরেট ১৪৬.৯৪ আর বোলিংয়ে স্ট্রাইকরেট ১৬.৫, তাঁকে আর যা–ই হোক, অলরাউন্ডার না বলাটা ঠিক শোভন দেখায় না।

তাহলে, অলরাউন্ডার রশিদ খান, নাকি! সূত্রঃ প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here