অনলাইন ডেস্কঃ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)’র সব ধরনের অভিযান আইন মেনে করা হয় বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। নেত্র নিউজ নামের একটি গণমাধ্যমে র‍্যাবকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে এ কথা বলেন র‍্যাবের এ মুখপাত্র।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিনটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত গ্রেপ্তার তিন আসামির বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার মঈন বলেন, ‘র‍্যাব একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র‍্যাবের সব ধরনের অভিযান আইন মেনে করা হয়। প্রকাশিত সংবাদটিতে যে সকল তথ্য উপাত্ত প্রচারিত হয়েছে তা সবই ভিত্তিহীন। এটাই আমাদের বক্তব্য। কারণ এখানে যেভাবে তথ্য উপাত্ত দেখিয়েছে বিষয়টি আসলে সঠিক না।’

কমান্ডার মঈন বলেন, ‘নেত্র নিউজে র‍্যাবকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে যখন থেকে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন থেকেই তার স্ত্রীর যখন আমাদের কাছে এসেছেন আমরা সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা করেছি। তিনি যেখানে যেখানে তার স্বামীর অবস্থান করতে পারে এমন সন্দেহ পোষণ করেছেন বা তিনি যদি  তথ্য দিয়েছেন  র‍্যাবের টিম তার সহযোগিতায় আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর স্ত্রী যখনই র‍্যাবের কাছে এসেছেন র‍্যাব তাকে সহযোগিতা করেছে। তিনি যে সকল স্থানে তার স্বামীকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেছেন আমরা তাকে সেসব স্থানে সহযোগিতা করেছি। এবং এখনো সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে আমদের যদি কেউ তথ্য দেন আমরা কিন্তু যাচ্ছি। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।

এদিকে বুধবার মধ্যরাতে মানিকগঞ্জে র‍্যাবের উপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, ‘সাভার থেকে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে র‍্যাবের একটি মাইক্রোবাস যাচ্ছিল। পথে র‍্যাবের গাড়ির ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়। র‍্যাব-৪ একটি অভিযানে যাচ্ছিল। মূলত গাড়িটিকে থামানোর উদ্দেশে গুলি করা হয়। এতে র‍্যাবের গাড়িটিতে বেশ কয়েকটি গুলি লাগে। এরপরই পেছনে থাকা আমাদের টহল টিমের সঙ্গে হামলাকারীদের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। ঘটনার পরপরই আমাদের ফরেনসিক টিম গিয়ে কাজ শুরু করে। আরেকটি দল অস্ত্রের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেখানে একজনকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহতের নাম মো. কাওসার বলে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। আহত কাওসারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  পরবর্তীতে র‍্যাব জানতে পারে আহত কাওসার আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যাসহ ১২টিরও বেশি ডাকাতি মামলা রয়েছে। আহত কাওসার চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যায়।’ র‍্যাবের ওপর বারবার এমন হামলা হয়েছে উল্লেখ করে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘র‍্যাবের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়। কিছুদিন আগেও কুমিল্লায় র‍্যাবের ওপর হামলা হয়েছে। সেখানে র‍্যাবের এক সদস্য আহত হয়েছে। তাকে আইসিইউতে নিয়ে গুলি বের করতে হয়েছে। মাদকবিরোধীসহ বিভিন্ন অভিযানে র‍্যাবের ওপর হামলা হয়েছে। এই সকল হামলায় র‍্যাবের ২৯ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন, প্রায় এক হাজারের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে সন্ত্রাসীদের হামলা থাকবেই। এটা মেনে নিয়ে আমরা কাজ করছি।’ সূত্রঃ ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here