অনলাইন ডেস্কঃ স্যোশাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের ১৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর (ডিএইউএস) সংখ্যা কমে গেছে। বিবিসি বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা নেটওয়ার্ক জানায়, গত বছরের শেষ তিনমাসে ফেসবুকের দৈনিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা নেমে এসেছে ১.৯২৯ বিলিয়নে। এর আগের তিন মাসে এই সংখ্যাটা ছিল ১.৯৩০ বিলিয়ন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের  সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে ফেসবুককে।  বিজ্ঞাপনদাতাও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া কমিয়ে দিচ্ছে। এর আঁচ লেগেছে প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশেও।শেয়ার বাজারেও তাদের শেয়ার ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

গত বছরের শেষ দুই ত্রৈমাসিকে প্রায় ১০ লাখ ব্যবহারকারীকে হারিয়েছে ফেসবুক।  মেটা নিজের শেষ ত্রৈমাসিকে০ ১০.৩ বিলিয়ন (এক হাজার ৩০ কোটি) মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় আট শতাংশ কম।

এদিকে, মেটার পাশাপাশি করোনা আবহে জনপ্রিয়তা লাভ করা নেটফ্লিক্সের বাজারদরও কমেছে।

পরিমসংখ্যানে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। তাই ১০ লাখ ব্যবহারকারীকে হারানো, সংখ্যার কাছে নগণ্য মনে হলেও আসলে তা নয় বলেই জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

ফেসবুক সব সময়ই একটি বর্ধনশীল প্ল্যাটফর্ম ।  এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারপরও গত কয়েক বছরে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  বাড়েনি ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা। মূলত বিশ্বের অন্যান্য অংশের ব্যবহারকারীরাই এই প্ল্যাটফর্মকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তবে তরুণ প্রজন্মের কাছে ফেসবুক আগের মতো জনপ্রিয় নেই। তরুণ প্রজন্ম ফেসবুকের চেয়ে ভিডিও  শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

তবে বিনিয়োগকারীদের ফেসবুকের প্রতি অনীহার অন্য কারণও রয়েছে।  এর পেছনে রয়েছে ফেসবুকের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম বদল। মূলত মেটাভার্সকে ফোকাস করতে ফেসবুকের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে মেটা রাখা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি মেটাভার্স নির্মাণের ধারেকাছেও নেই। এই মুহূর্তে মেটাভার্স একটি অবাস্তব বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। সূত্রঃ যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here