অনলাইন ডেস্কঃ বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে বাংলাদেশ! বিজয়ের সেই গৌরব গাঁথা, যুদ্ধ দিনের আবেগ অনুভূতি কিংবা বোধের অগণিত গল্প সেলুলয়েডে উঠে এসেছে বাংলাদেশের সূচনা লগ্ন থেকেই। তবে আশ্চর্য বিষয় হলো বিজয়ের ৫০ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ ইতিহাস নিয়ে নির্মিত হয়নি কোন সিনেমা! কিন্তু, কেন?

একটি স্লোগান থেকে জন্ম স্বাধীন এক ভূখণ্ডের! তার নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নির্মাণের গৌরবান্বিত এক অধ্যায় মুক্তিযুদ্ধ! মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক পূর্ণদৈর্ঘ্য ও স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা। নির্মিত হয়েছে অসংখ্য প্রামাণ্যচিত্র ও সংবাদচিত্র। ওরা ১১জন, অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, আলোর মিছিল, হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, আগুনের পরশমণি, জয়যাত্রা গেরিলা, জীবনঢুলী কিংবা সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’সহ অনেক সিনেমার নামই বলা যায় যেখানে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের আবেগ-অনুভূতির অজস্র গল্প। উঠে এসেছে দেশপ্রেম কিংবা আত্মত্যাগের কথা।

২০২১ সালে বিজয়ের ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। ৫০ বছরে বাংলাদেশের সিনেমা। ৫০ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নিয়ে নির্মিত হয়নি কোন সিনেমা। কি এর নেপথ্যের কারণ? বিজয়ের গৌরব গাঁথা কিংবা নাম না জানা অগণিত মহা নায়কের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার প্রকাশ কোথায়? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কারণ?

নদীর নাম মধুমতি, জীবনঢুলী, রাবেয়া কিংবা প্রামান্নচিত্র ১৯৭১ এর নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলও জানালেন মুক্তিযুদ্ধের বিশাল প্রেক্ষাপটের কথা। চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল বলেন, হাজার হাজার ঘটনা, আপনি কয়টা বলবেন? বরং প্রামাণ্য চিত্রে গেলেই সুবিধা। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরিপূর্ণ ইতিহাস নিয়ে নির্মাণ থাকার কথা বললেন তানভীর মোকাম্মেল, জার্মানরা একটি টিভি সিরিয়াল বানিয়েছে Heimat নামে। এটা ২য় বিশ্বযুদ্ধের বিশাল ইতিহাস নিয়ে বানানো।

তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পরিপূর্ণ ইতিহাস নিয়ে হতে পারে কি কোন সিনেমা? কীভাবে হতে পারে আমাদের অহংকার, আমাদের বেঁচে থাকার প্রাণ আখ্যান মুক্তিযুদ্ধের সেলুলয়েড নির্মাণ? এমন প্রশ্নের জবাবে চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল বলেন, যোগ্য পরিচালকদের পর্যাপ্ত বাজেট দিয়ে যদি গবেষণা ও নির্মাণের সুযোগ দেয়া যায় তাহলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দশ বা বিশ পর্বের একটা সিরিজ নির্মাণ করা যেতেই পারে পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস নিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ধারাবাহিক এই নির্মাণ কেন জরুরী? সেটাও জানালেন তানভীর মোকাম্মেল, দেখুন একটা জায়গায় দাঁড়াতে প্ল্যাটফর্ম লাগে। একটা জাতির অবশ্যই এই প্ল্যাটফর্মটা দরকার। ঠিক তেমনি, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে আমাদের প্ল্যাটফর্ম। আমাদের এই ইতিহাসের যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকে তাহলে জাতি হিসেবে আমরা কোথায় দাঁড়াবো?

মুক্তিযুদ্ধের অনেক সিনেমাই আমাদের ফিরিয়ে নেয় ১৯৭১ এ। নাড়া দেয় বাঙ্গালীর বোধে। শক্তি যোগায় বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে মেলে ধরতে! তবে পরিপূর্ণ ইতিহাসের সিনেমা হতে পারে বাংলা নামক দেশের প্রামাণ্য এক দলিল! এ সিনেমা হতে পারে বাঙ্গালী পরিচয়ের মহাকাব্যিক এক আখ্যান। কিন্তু সেদিন কবে? সূত্রঃ যমুনা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here