অনলাইন ডেস্কঃ টিকা আছে ৪শ, সিরিঞ্জ মাত্র ১শ। রাতারাতি গায়েব করোনা টিকা দেয়ার ৩শ সিরিঞ্জ। নানান অযুহাতে সিরিঞ্জের উদ্ধারের দায়িত্ব নিয়ে শেষে নিজেই পালিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্ভট এমন ঘটনা ধরা পরে । বেরিয়ে আসে সিরিঞ্জ গায়েবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ায়ের সংশ্লিষ্টতা। যার সাক্ষী হাসপাতালেরই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিচার চেয়ে তারাই এখন আন্দোলনে। অন্যদিকে টিকা বঞ্চিত উপজেলার ৩শ মানুষ।

২৯ নভেম্বর সকাল সাড়ে সাড়ে ৯টা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে দেখা যায় হট্টগোল। উপস্থিত লোকজন জানালেন ২ দিন ধরে ঘুরেও পাচ্ছেন না টিকা। তবে ৫০০ টাকা দিলে টিকা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে বলে জানালেন তারা।

উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা ঠিকই আছে, তবে নেই সিরিঞ্জ। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জিল্লুর রহমান জানালেন, গণটিকা কার্যক্রমে টিকা ও সিরিঞ্জ পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে টিকা ফেরত আসলেও ফেরত আসেনি সিরিঞ্জ। তবে কোথায় গেছে সিরিঞ্জগুলো, সদুত্তর নেই তার কাছেও।

৩শ সিরিঞ্জ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় টিকা নিতে পারছেন না মানুষ। এতে হাসপাতাল জুড়ে কয়েকশ মানুষের ভিড়। সিরিঞ্জ গায়েবের উদ্ভট এ অযুহাতে হতবাক টিকা নিতে আসারা।

করোনা টিকা নিয়ে একি হচ্ছে? জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেনও দিতে পারলেন না কোনো বিশ্বাসযোগ্য উত্তর। তিনিও বললেন, গণটিকায় পাঠানোর পর ফেরত আসেনি সিরিঞ্জ। বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি, মিথ্যা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগেরদিন গণটিকা চলে ব্রহ্মকপালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে। সেখানকার সিএসসিপি সাইফুল ইসলাম জানান, তারা গুনে গুনে সই করে টিকা আর সিরিঞ্জ বুঝিয়ে দিয়েছেন।

পরদিন তো দূরের কথা, ১০ দিনেও টিকা আর সিরিঞ্জের হিসেবটা সমান করতে পারেননি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। বুধবার বিকেলের এমটি জিল্লুর রহমানসহ গায়েব খোদ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার। বৃহস্পতিবার মুখ খোলেন খোদ হাসপাতাল কর্মীরাই। তারা জানালেন, ডা. আনোয়ারের বিরুদ্ধে করোনার সময় নানা ইস্যুতে টাকা আত্মসাৎ, ঘুষ আর অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার চাইলেন তারই অধীনস্থরা।

সিরিঞ্জ গায়েব শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আন্দোলনে। ওদিকে এখিও টিকা বঞ্চিত নিবন্ধিত তিনশ টিকাপ্রার্থী। সূত্রঃ যমুনা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here