অনলাইন ডেস্কঃ হঠাৎ করেই সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। শুধু নভেম্বর মাসেই নিহত হয়েছে অর্ধশত শিক্ষার্থী।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবং রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গত ছয় বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ৮ হাজার ৬৪২ জন, ২০১৬ সালে ৬ হাজার ৫৫ জন, ২০১৭ সালে ৭ হাজার ৩৯৭ জন, ২০১৮ সালে ৭ হাজার ২২১ জন, ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৮৫৫ জন এবং ২০২০ সালে ৬ হাজার ৬৮৬ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ৭০৬ জন, শিক্ষক নিহত হয়েছে ১০৪ জন, ২০২১ সালে প্রথম ১০ মাসে সড়কে নিহত হয়েছেন ৬৪৯ শিক্ষার্থী। কেবল ২০২১ সালের নভেম্বরেই নিহত হয়েছেন ৫৫ শিক্ষার্থী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সড়কে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তাই দুর্ঘটনা কমানোর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সড়কে নিয়ম মেনে চলার তাগিদ সবার।

সাড়ে তিন বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিমের বাবা-মা। স্বপ্ন দেখেন হয়তো ফিরবে প্রিয় সন্তান।

দিয়ার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সন্তান হারানোর কষ্ট কখনোই ভোলা যায় না। দিয়া আর কখনোই আমার কাছে আসবে না। তবুও আমি আজও আশায় আছি-আমার দিয়া ফিরে আসবে।

২০১৮ সালে শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজপথে নামে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা। তিন বছরের বেশি সময় পর আবারও সড়কে শিক্ষার্থী।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি, ট্রাক্টরসহ এসব দ্রুত গতির যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলছে এবং ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী, যুবক কিশোর প্রতিদিন আহত নিহত হচ্ছে। তবে সড়ক দুর্ঘটনা জন্য অদক্ষ চালক আর বেপরোয়া প্রতিযোগিতাকেই দুষছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও এসব মানতে চায় না চালকরা।

পাশাপাশি রাস্তা পারাপারে অসতর্কতাই দায়ী বলে মনে করেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাদউজ্জামান।

তিনি বলেন, সড়কের রোগটা অনেকটা রাজনৈতিক। যারাই সুবিধাভোগী তারাই সরকারের মধ্যে বসে আছে এবং তারাই কিন্তু পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখানে একটি দুষ্টুচক্র জড়িত হয়ে গেছে। যে পরিবর্তনের কথা আমরা বলছি, সেটা তখনি সম্ভব যখন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এ পরিবর্তনটা আনার জন্য একটা সদিচ্ছা তৈরি হবে। তাছাড়া আমরা যতই আইন করি না কেন, অবকাঠামো যতই তৈরি করি না কেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব আছে। ফলে দৃশ্যমান যে উন্নতি এবং সড়ককে যে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অর্থাৎ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য থেকে বের করে আনার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।

সম্প্রতি নটর ডেম কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদে আবারও নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবি নিয়ে রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা।

গত কয়েক বছরে দেশে সড়ক-মহাসড়ক ফ্লাইওভারের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে নানামুখী। কিন্তু সেই হারে সড়কে প্রাণহানির সংখ্যা কমেনি। এমন বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা বলছেন গাড়ি চালকদের প্রতিযোগী মনোভাব কমানোর পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারে সর্তক হতে সবে সবাইকে। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here