অনলাইন ডেস্কঃ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, জাল ভোট, কেন্দ্র দখলের চেষ্টার মধ্যে দিয়ে নেত্রকোনার ২৫ ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ চলছে।

বৃহস্পতিবার ভোট শুরুর পর জেলা সদরের লক্ষিগঞ্জ ইউনিয়নের আতকাপাড়া ও বাইড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট প্রয়োগের অভিযোগে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাইরে থেকে শতাধিক ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হয়। ওই ইউনিয়নের লক্ষিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র্ও কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করে ভোট শুরু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া বিকেল চারটা পযন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পযন্ত সদর উপজেলার সিংহের বাংলা, আটপাড়ার পেয়াজকান্দিা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  মুনসুরপুর এমএ আবদুল হামিদ তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয়, দরবেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অভয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ১০টি কেন্দ্রে ঘুরে দেখা গেছে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি। পুরুষ ভোটার খুবই কম। কিছু কিছু কেন্দ্রে হাতেগোনা কয়েকজন পুরুষ ভোটার ভোট কেন্দ্রে আসতে দেখা গেছে।

তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ইউনিয়নে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং কর্মকর্তা আবদুল লতিফ শেখ জানান, দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া  শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বেশ সরব রয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি উপজেলায় ২৪৬টি ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১১১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৩ হাজার ১৯১ জন, বারহাট্টায় ৬৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪২ হাজার ৬১৬ জন এবং আটপাড়ায় ৬৭টি ভোটকেন্দ্রে এক লাখ ১৮ হাজার ৭৫৩ জন ভোটার ভোট প্রদান করার কথা রয়েছে।

১০টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে বেশ উৎসাহ বিরাজ করছে। ভোট শুরুর আগেই বেশিরভাগ কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের ভিড় চোখে পড়েছে। মুনসুরপুর আবদুল হামিদ তালুকদার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দুটি দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পিযুষ কান্তি সরকার জানান, এক হাজার ২৬৫ জন ভোটারের মধ্যে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৪টি বোথ কক্ষে ৩১২ জন ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।

ভোট প্রদান করা লোকজন ও কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচন কাযালয় থেকে সরবরাহ করা স্ট্যামপ্যাডগুলো নিম্নমানের হওয়ায় পর্যাপ্ত কালি ছিল না যে কারণে ভোটারদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তবে অনেক কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বাইরে থেকে স্ট্যামপ্যাড সরবরাহ করেছেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ কেন্দ্র স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সূত্রঃ যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here