অনলাইন ডেস্কঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনার পর সেখানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতারাও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

চিকিৎসক হতে আসা শিক্ষার্থী নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ানোর কোনো যুক্তি নেই বলে মনে করছেন তারা।

এর আগে শুক্রবার রাতে চমেক ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তার জের ধরেই শনিবারও চমেক কলেজ ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি এবং ছাত্রাবাসে সংঘর্ষের ঘটনায় চকবাজার থানায় পৃথক দুটি মামলাসহ তিনটি মামলা হয়। এসব মামলায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়।

এ ধরনের সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া কিছু শিক্ষার্থীর অপকর্মের কারণে বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন পড়েছে অনিশ্চয়তায়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্লিপ্ততাতেই এসব সংঘর্ষ প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। তবে ছাত্রলীগের বাইরের কোনো শক্তি এসবের নেপথ্যে মদত দিচ্ছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সদস্য ও চমেক ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ডা. মফিজুর রহমান জুম্মা জানান, এখন চমেকে বিরোধীদলীয় কোনো পক্ষ সক্রিয় নেই। তার পরও বারবার সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন একই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও মতামতে পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু আদর্শিক দিক থেকে সবাই এক হওয়ার পরেও এমন ঘটনা ঘটছে। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে তৃতীয় কোনো পক্ষ সহিংসতায় ইন্ধন দিচ্ছে কি না তাও খোঁজ নেওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া চমেকে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক  ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী জানান, অভিভাবকরা তাদের মেধাবী সন্তানকে চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করান। কিন্তু এসব শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে এসে যদি সহিংস আচরণ করে, তা হলে সেটি মেনে নেওয়া যায় না।

বর্তমানে ছাত্রদের মধ্যে সহনশীলতা কমে যাওয়ায় এসব ঘটনা বারবার ঘটছে। সবাই সরকারদলীয় নেতাকর্মী, তাই সবাইকে আরও সহনশীল হতে হবে। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে নেতৃত্ব পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। দুটি পক্ষের মধ্যে যতদিন ঐক্য না আসে চমেকে ততদিন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও জানান তিনি।

এমন ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চমেক ছাত্রলীগের একটি পক্ষ চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ নিয়ে অপর একটি পক্ষ প্রতিবাদ করার কারণে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের সংঘর্ষ মোকাবিলায় চমেক এবং চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। যার কারণে বারবারেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই চমেকে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সূত্রঃ যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here