অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের দিকে তাকিয়ে ছিলেন টাইগার সমর্থকরা। এই আমিরাতের মাঠ-কন্ডিশন তাদের সবচেয়ে ভালো চেনা। কিছুদিন আগেই আইপিএল খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সেই দুই তারকাও নিজেদের সেরা উজাড় করে দিতে পারছেন না।

সাকিব-মুস্তাফিজ দুই তারকার পারফরম্যান্সই ‘গড়পড়তা’। দলের অন্যরাও নিজেদের হারিয়ে খুঁজছেন। মানসিক অবসাদে যেন অন্ধকারে খাবি খাচ্ছেন। টানা দুই ম্যাচে হেরে যেন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে যাচ্ছে। স্বপ্নের ‘সেমিফাইনাল’ খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে আজ শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয়ের বিকল্প নেই। কিন্তু দলের এই বিপদে কে ধরবে হাল?

একটি জয়ই অনেক সময় সব কিছু বদলে দেয়। ক্রিকেটে ‘মোমেন্টাম’ খুবই বড় বিষয়। একবার তা ফিরে পেলে সেই দলকে হারানো কঠিন। হারতে বাংলাদেশ যেন আর মোমেন্টাম খুঁজে পাচ্ছে না। যা করছে তাতেই ভুল হচ্ছে। সাকিব আল হাসানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরছেন। আবার বল হাতেও নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। মুস্তাফিজুর রহমানও ফিরতে পারছেন না তার আগ্রাসী চেহেরায়।

প্রতিটি দলেই একজন কিংবা দুইজন ক্রিকেটার থাকেন যারা প্রতিপক্ষের শিবিরে আতঙ্ক ছড়ায়। যাদের পারফরম্যান্স দলের অন্যদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু এই বিশ্বকাপে দলের তারকারাই যেন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছেন।

আজ বাংলাদেশের সামনে দারুণ একটি সুযোগ। কারণ প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারা সুপার টুয়েলভে দুই ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি। এই দুর্বল মুহূর্তেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আঘাত করার সুবর্ণ সুযোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) অনুশীলনের পূর্বে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান।

তিনি বলেন, ‘টি-২০তে ছোট বড় দল বলে কিছু নেই। নিজেদের দিনে যেকোনো দলই জিততে পারে। এই ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও দেখেছি বাংলাদেশ বিপদে পড়েছে, আবার ঘুরেও দাঁড়িয়েছি। আমরা এই ম্যাচটি জেতার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েক সিরিজ জিতেছি। সেই জয়গুলো আমাদের অনুপ্রেরণা দেবে।’

টানা দুই ম্যাচ হারার পরও এখনো সেমিফাইনালের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। যদিও কাল সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি সোহান। তার ভাষ্য, ‘এই টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচটা আমাদের জিততেই হবে। এখন আমরা অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। আমাদের পুরো ফোকাস ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিকে। আমার বিশ্বাস, একটা জয় পেলেই পুরো দল চাঙ্গা হয়ে যাবে। এটা ঠিক যে এখন আমরা অনেকটা ব্যাকফুটে আছি, কারণ প্রথম দুইটা ম্যাচ হেরেছি। এখন আমরা একটি জয়ের জন্য খুবই উদগ্রীব হয়ে আছি।’

এদিকে, বাংলাদেশের মতো একই অবস্থা ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও। শারজাহ তারা বাংলাদেশকে হারানোর জন্য মুখিয়ে আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রতিনিধি হিসেবে প্রেস কনফারেন্সে এসেছিলেন নিকোলাস পুরান। তিনি বলেন, ‘জয়টা আমাদের জন্য এখন খুবই দরকার। জানি, দুই ম্যাচ হেরে বাংলাদেশও আমাদের মতো একই অবস্থায় আছে। এটাই আমাদের সুযোগ। নিজেদের ক্রিকেটারদের ওপর আমাদের ভরসা আছে।’

শারজাহ স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি তুলনামূলক কিছুটা ছোট। তাই ছক্কা হাঁকানোটা ক্যারিবীয়দের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। কিন্তু পুরান মনে করেন, স্কিল কাজে লাগিয়ে তারা ভালো করতে পারবেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয় বাংলাদেশের স্পিনারদের। পুরান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্পিনাররা খুবই ভালো। তারা চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। তাই আমাদের সতর্ক হয়েই খেলতে হবে। সব কিছুর পরও এই জয়টা আমাদের চাই।’

মরিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাংলাদেশ আজ কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়! এর আগেও বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে এবং প্রবলভাবে ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। কখনো সাকিব, কখনো মুস্তাফিজ কিংবা মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ অথবা সম্মিলিত প্রয়াসে ছিনিয়ে এনেছে জয়। দেখা যাক, এবার এই বিপদে কে ধরে হাল! সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here