অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্বে হঠাৎই বেড়েছে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আফগানিস্তান, নরওয়ে এবং ব্রিটেনে ৪টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলো। যার সবগুলোতেই অভিযুক্তের তালিকায় মুসলিমদের নাম। ফলে গোটা বিশ্বে ইসলাম ভীতি বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বিব্রত মুসলিম বিশ্বও। ইসলামিক বক্তারা বলছেন, এসব হামলা মুসলমানদের কোণঠাসা করতেই পশ্চিমাবিশ্বের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।

আফগানিস্তানে পরপর দুই শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শিয়া মসজিদে চালানো হয় আত্মঘাতী বোমা হামলা। এতে প্রাণ যায় শতাধিক মানুষের। এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই নরওয়েতে তীর-ধনুক নিয়ে হামলা চালিয়ে ৫ জনকে হত্যা করা হয়। সেখানেও হামলাকারী ইসলাম ধর্মের অনুসারী বলে জানানো হয়। এছাড়া শুক্রবার ব্রিটিশ এমপি ডেভিড অ্যামেস হত্যায় সোমালি বংশোদ্ভুত এক মুসলিমের নাম উঠে আসে।

এ ঘটনার পর থেকে ব্রিটেনে আইনপ্রনেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব সময় পুলিশি পাহারা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল জানান, এভাবে সন্ত্রাসীর হাতে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই এমপিদের সব সময় যেন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এ জন্য স্পিকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ঠিকঠাক পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বটি পালন করলেই এমপিরা দলীয় এবং নির্বাচনী কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক বক্তা ডা. খালেদ গ্রিন বলছেন, ধর্মের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস, আলকায়দার মতো উগ্র সংগঠনগুলো। যার প্রভাবে দেশে দেশে ইসলাম ভীতি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, এটা অনুভব করতে হয়। কিন্তু ইসলামের নামে যা ঘটানো হচ্ছে তা কখনও সমর্থনযোগ্য নয়। বিভিন্ন দেশের অর্থায়নে এসব অপকর্ম ঘটাচ্ছে আইএস, আলকায়দা। পশ্চিমাদের স্বার্থ রয়েছে বলেই ইরাক, আফগানিস্তানে শান্তি ফিরছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসব কারণে বিভিন্ন দেশে সাধারণ মুসলিমরাও নির্যাতন ও হামলার শিকার হচ্ছে। তথ্য বলছে শুধু ফ্রান্সেই ২০২০ সালে মুসলিম কমিউনিটির ওপর ২৩৫টি হামলা হয়েছে, যা ২০১৯ সালের চেয়ে ৫৩ শতাংশ বেশি। সূত্রঃ যমুনা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here