অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান লাগোয়া রাজ্যগুলোয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর শক্তি বাড়িয়েছে ভারত। এর ফলে, ১০টি রাজ্য এবং দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাড়বে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা। এছাড়াও তল্লাশি, গ্রেফতার এবং সন্দেহভাজন মালামাল জব্দের এখতিয়ারও পাচ্ছে বিএসএফ। কিন্তু, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ বাড়ছে রাজ্যগুলোয়।

সম্প্রতি, জম্মু-কাশ্মির সীমান্তে বেড়েছে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে, গতকাল বুধবার (১৩ অক্টোবর) সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বিএসএফ এর শক্তির বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুসারে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী ৩টি রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও পাঞ্জাব থাকবে সর্বোচ্চ নজরদারিতে। আগে রাজ্যগুলোর সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিলোবিএসএফ এর নিয়ন্ত্রণে; যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ কিলোমিটার। সেভেন সিস্টার্স, জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখেও থাকবে এ সীমারেখা। সেখানে পুলিশের মতোই তল্লাশি-গ্রেফতার ও অবৈধ মালামাল জব্দের এখতিয়ার থাকছে বিএসএফ এর।

এরই মাঝে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোয় ছড়িয়েছে উত্তাপ। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিকভাবে এটা খুবই স্পর্শকাতর ইস্যু। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি প্রতিবাদ জানিয়ে টুইট করেছেন। টুইটে দ্রুত অযৌক্তিক এই পদক্ষেপ সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। টুইটে তিনি লিখেছেন, আন্তর্জাতিক সীমানায় বিএসএফকে ৫০ কি.মি. বেল্টে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এটা প্রজাতন্ত্রের স্বায়ত্বশাসন খর্বের এক লজ্জাজনক উদাহরণ। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমিত শাহজীকে অনুরোধ করবো দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার।

আর পাঞ্জাবের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখউইন্দর সিং রানধোয়া সাংবাদিকদের বলেন, রাজ্য প্রশাসনকে দুর্বল প্রমাণের জন্যেই বিএসএফ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুবা, রাজ্যের ভেতরে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শক্তিমত্তা বৃদ্ধির কোন যৌক্তিকতা নেই। এর মাধ্যমে, নজরদারি এবং রাজ্যের ওপর কর্তৃত্ব বাড়াবে কেন্দ্র। এ ব্যাপারে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সাথে কোন আলোচনাও করেনি মোদি সরকার। যা, গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর, পাসপোর্ট আইন এবং ভারতে প্রবেশের আইন প্রয়োগ করতে পারবে বিএসএফ। এমনকি কাউকে গ্রেফতারের জন্যও প্রয়োজন হবে না ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা। নজিরবিহীন এ সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য প্রশাসনের সাথে বিএসএফ এর ও দূরত্ব বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্রঃ যমুনা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here