অনলাইন ডেস্কঃ সিলেটে সরকারি টিলা কেটে ২৫১ কোটি ৫২ লাখ টাকার পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার মেসার্স বশির কোম্পানির মালিক মোহাম্মদ আলীর (৪০) বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। বুধবার রাতে দুদক সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে ১০ শর্তে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত চিকাঢুরা মৌজায় শাহ আরেফিন টিলার ২৫ হেক্টর বা ৬১ একর এলাকা থেকে সাধারণ পাথর উত্তোলনের জন্য ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল এক বছরের জন্য মেসার্স বশির কোম্পানি পাথর কোয়ারি ইজারা পায়।

কিন্তু ইজারাদার মেসার্স বশির কোম্পানির মালিক মোহাম্মদ আলী শর্ত ভঙ্গ করে পাথর উত্তোলন করেন। এতে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রাখেন ইজারাদার। পাথর উত্তোলনের জন্য ৬১ একর এলাকায় অনুমোদন পেলেও তিনি ১৩৭.৫০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত সম্পূর্ণ টিলা থেকে পাথর উত্তোলন করতে থাকেন। এক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালাও অনুসরণ করেননি ইজারাদার মোহাম্মদ আলী। অথচ পাথর উত্তোলনে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শাহ আরেফিন টিলার ২৫ হেক্টর বা ৬১ একর পাথর উত্তোলনের জন্য ইজারা গ্রহণ করে ১৩৭.৫০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত সম্পূর্ণ টিলা থেকে ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট পাথর অবৈধ উপায়ে উত্তোলন করে সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধন করেছেন আসামি মোহাম্মদ আলী। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলনে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর এ টিলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলামকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্তে ইজারাদারের অনিয়ম পাওয়া যায়। ৬৫ একর ভূমির ইজারা নিয়ে ১৩৭ একরে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা বলা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। টিলা ধ্বংসের সাথে জড়িত ৪৭ জনের নামও তখন ওঠে আসে। সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here