অনলাইন ডেস্কঃ ভূ-রাজনীতি এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সাথে বৈঠক হয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমার পুতিনের।

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তি রাশিয়ার সোচি শহরে দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ দ্বিপাক্ষিক আলাপ হয়। বৈঠকে সিরিয়ায় অভিযান সংকুচিত করা এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনার হয় দুই নেতার। আলাপকালে তুরস্কের কাছে রাশিয়ার উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন বিক্রির ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন পুতিন।

রাশিয়ার কাছ থেকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার সম্ভাবনা আঁচ পেয়েই তুরস্কের ওপর নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে তুর্কি রাষ্ট্রপ্রধান এরদোগানের দেয়া বৈঠকের প্রস্তাবও বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমাতাসুলভ আচরণ ভুলতে পারছে না তুরস্ক। সে কারণেই আরও বেশি রাশিয়ার প্রতি ঝুঁকলো দেশটি। বুধবার সোচিতে হওয়া দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় সিরিয়া সংঘাতের পাশাপাশি উঠে আসে প্রতিরক্ষা সম্পর্কও।

এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমাদের যৌথ উদ্যোগের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তুরস্ক-রাশিয়ার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে অঞ্চলটির শান্তি। তাছাড়া, রাজনীতি-অর্থনীতি-সামরিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও দু’দেশের চমৎকার সম্পর্ক। যা আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে ঠেকানো যেতে পারে যুদ্ধবাজ বহিঃশত্রুর আগ্রাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য কমাতে, দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরালো হচ্ছে- এমন ইঙ্গিতও দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, মহামারি চলাকালেও তুরস্কের সাথে রাশিয়ার সুসম্পর্ক বজায় ছিলো। এটা খুবই ইতিবাচক। গ্যাস পাইপলাইন তুর্কস্ট্রিম পৌঁছে গেছে তুরস্কে। শুধু তাই নয় পুরোপুরি কাজ করাও শুরু করেছে সেটি।

বিদায় বেলায় তুর্কি প্রেসিডেন্টকে বুস্টার ডোজের ক্ষেত্রে রুশ উদ্ভাবিত ‘স্পুটনিক- ভি’ নেয়ার প্রস্তাব দেন পুতিন। সম্প্রতি, তার প্রশাসনের অর্ধ-শতাধিক কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হলে আইসোলেশনে ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সূত্রঃ যমুনা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here