অনলাইন ডেস্কঃ জার্মানিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষ; এখন দৌড়াদৌড়ি চলছে সরকার গঠন নিয়ে। গত রোববার সাধারণ নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) স্বল্প ব্যবধানে জয়ের দাবি করেছে। দেশটির মধ্য ডানপন্থী দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (এসডিইউ) দেড় যুগের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে দেশটির সবচেয়ে পুরোনো দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এসপিডি) সামনে নিয়ে এসেছেন চ্যান্সেলর প্রার্থী ওলাফ শলৎজ।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জার্মানিতে নতুন সরকার গঠন করতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। আর নতুন সরকার না হওয়া পর্যন্ত অ্যাঙ্গেলা মার্কেল চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করবেন, যিনি ১৬ বছর ধরে এই পদে আছেন।

গত রোববারের নির্বাচনটি ছিল জার্মানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই নির্বাচনে জার্মানের পার্লামেন্ট বুন্দেসতাগে যেতে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এবারের নির্বাচনে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। দেশটিতে ক্ষমতায় আসবে জোট সরকার। তবে এটি জার্মানির জন্য নতুন কিছু নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে কোনো দলই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

বিবিসির খবরে আরও বলা হয়েছে, ওলাফ শলৎজের দল এসপিডি নির্বাচনে জয় দাবি করলেও তাদের চ্যান্সেলর পেতে অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধার বিকল্প নেই। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সিপিডির পরাজয়ের কারণ হিসেবে অনেকেই দেখছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় মানুষ নতুনত্বের জন্য এসপিডিকে ভোট দেন। অন্যদিকে এসপিডির অভিবাসন নীতি, জলবায়ু মোকাবিলা, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি সাধারণ নাগরিকদের দৃষ্টি কেড়েছে।

জার্মানিতে আট বছর ধরে এসপিডি ও রক্ষণশীল দল একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে। তবে এবার শলৎজ জানিয়েছেন, গ্রিন ও ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টির (এফডিপি) সঙ্গে জোট করতে চান তিনি। অন্যদিকে লড়াই ছাড়া মাঠ ছাড়বেন না আরমিন ল্যাশেট। তিনি বলেছেন, সরকার গঠনের চেষ্টা করতে বদ্ধপরিকর থাকবেন। এ জন্য তার পছন্দ গ্রিন ও লিবারেল পার্টি।

এবারের নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরেছে মার্কেলের দল সিডিইউ। দলের ৭২ বছরের ইতিহাসে এর আগে কখনও তারা ৩০ শতাংশের কম ভোট পায়নি। এর পরও সিডিইউয়ের চ্যান্সেলর প্রার্থী আরমিন লাশেট বলেছেন, তিনি সরকার গঠনের হাল এখনও ছাড়েননি। জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনিও গ্রিনস ও এফডিপির সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও চলতি বছর নানা কারণে লাশেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশেষ করে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ‘হাসাহাসি’ করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। সূত্রঃ যমুনা নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here