অনলাইন ডেস্কঃ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। ব্রেক্সিট ও কোভিড পরবর্তী সহযোগিতা জোরদারের বিষয় তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে লন্ডনের এই বৈঠক ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করবে। কারণ, সবশেষ ৪৭ বছর আগে, ১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যের ফরেন মিনিস্টার হাউজে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেন। এরপর আর কোনো বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়নি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

সম্প্রতি লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের সভাপতিত্বে যে জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে, তাতে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি বাংলাদেশ। এ কারণেই এই বৈঠক ‘বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ’।

উঠে আসবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্যিক সম্পর্ক, টিকা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের বিষয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষের পোট্রেট, বঙ্গবন্ধু কনস্যুলার সপ্তাহ ও দূতাবাসের বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করবেন আব্দুল মোমেন।
এছাড়া, কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি ও বিশিষ্টজনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রবাসীদের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইউরোপের তিন দেশ সফরের উদ্দেশে ২৯ আগস্ট ঢাকা ছাড়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় এলডিসির পঞ্চম সম্মেলনকে সামনে রেখে সুইজারল্যাডের জেনেভায় এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল রিভিউ বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার লন্ডনে পৌঁছাবেন ডক্টর মোমেন। যুক্তরাজ্য সফর মূলত সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডে মাঝে যাত্রাবিরতি। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর তিনি নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশন ফোরামের বৈঠকে যোগ দেবেন। সফর শেষ করে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়া, ভারত ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) উজবেকিস্তানের তাসখন্দে পৃথক এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু ছাড়াও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে প্রবেশের পর এই প্রথমবারের মতো গত সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৪৭তম অধিবেশনে ‘হিউম্যান রাইটস সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিম অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিজ ইন মিয়ানমার’ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

এ প্রস্তাবে সংহতি জানানোয় ধন্যবাদ দিয়ে এ কে আব্দুল মোমেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

এছাড়াও মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক মস্কো সফর ও অস্ত্র চুক্তির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী।
ভারতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হওয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন গুরুত্ব তুলে ধরেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও।
বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জানান, উপহারস্বরূপ বাংলাদেশকে আরও এক মিলিয়ন চীনা ভ্যাকসিন দেবে দেশটি।
এছাড়া এ কে আব্দুল মোমেন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও বিমানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে উঠে আসে তুলা রপ্তানি এবং ঢাকা-তাসখন্দের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগসহ বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।
দু’দিনব্যাপী আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োইয়েভের আয়োজনে ‘সেন্ট্রাল অ্যান্ড সাউথ এশিয়া: রিজিওনাল কানেক্টিভিটি-চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপারচুনিটি’ বিষয়ক সম্মেলনে প্রায় ৪০টি দেশের সরকার প্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও যোগ দেন ঢাকা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘যোগাযোগ নেতা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়।
মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পরিবহন, লজিস্টিকস, জ্বালানি-শক্তি, বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও মানবিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পারিক স্বার্থে কৌশল প্রণয়নে বহুমুখী আলোচনার জন্য একটি রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উচ্চ-পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here