অনলাইন ডেস্কঃ পিরোজপুরের নেছারাবাদে মোবাইল ফোন কিনে দিতে না পারায় দীপা (১৮) নামে এক কলেজছাত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

রোববার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলার সমেদয়কাঠি ইউনিয়নের শশিদ গ্রামে মালি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। দীপা পাশের শেখেরহাট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সে ওই গ্রামের মৃত দীনেষ মালীর মেয়ে।

দীপার প্রতিবেশী চাচা সাগর মণ্ডল জানান, দীপারা খুবই গরিব। দীপা কলেজের অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ভাইকে একটা ফোন কিনে দিতে বলেছিল। আজ সকালে ওর মা-ভাই জমিতে কাজে যায়। সকাল দশটার দিকে এসে দীপাকে ঘরের ভেতরে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীপা বেশ কিছুদিন ধরে কলেজের অ্যাসাইনমেন্টের জন্য তার পরিবারকে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য বায়না করে আসছিল। করোনাকালীন স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায়ই কলেজের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য ফোন কেনার কথা তাদের বলে আসছিল। তার পরিবার খুবই দরিদ্র হওয়ায় ফোন কিনে দিতে পারছিল না। একপর্যায়ে দীপা আবারও শনিবার রাতে ফোনের জন্য পরিবারকে চাপ দেয়। এতে তার মা তাকে গালমন্দ করে এবং ফোন কিনে দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। ভোরে দীপার মা ও ভাই ঘর থেকে কাজে বের হয়। সকাল দশটার দিকে ঘরে এসে দীপাকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঘরের আরায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
নেছারাবাদ থানার ওসি তদন্ত মো. সোলাইমান মেয়েটির পরিবারের বরাত দিয়ে জানায়, মেয়েটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য পরিবারের ওপর চাপ দিয়ে আসছিল। মোবাইল ফোন কিনে দিতে না পারায় শনিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর আজ সকালে তার মা কাজ থেকে ফিরে দেখে তার মেয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্রঃ সময় নিউজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here