অনলাইন ডেস্কঃ গণটিকা কর্মসূচির মাধ্যমে দুদিনে সারা দেশে ৩২ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ নিয়েছেন। টিকার মজুত স্বল্পতার কারণে নানা ভাগে সাজানো এ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা দুদিনেই পূরণ হয়ে গেছে। এরপরও কার্যক্রমটি চালু রাখবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত দুদিনে যারা বাদ পড়েছেন তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় আজ টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টারে টিকা পাঠানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। ১০ থেকে ১২ তারিখ শুধু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া হবে। এমন সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।

অথচ এর আগে ৭ থেকে ১২ আগস্ট টানা কর্মসূচির মাধ্যমে এক কোটি টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু মজুত স্বল্পতার কারণে প্রথমে এ কর্মসূচি সীমিত করে একদিনে আনা হয়। এতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গণটিকার কার্যক্রম কাটছাঁট করে ৩২ লাখ ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৬ দিন ঠিক রাখা হলেও তা টানা নয়। ভেঙে ভেঙে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে পরিকল্পনা। ৭ আগস্ট সারা দেশের সব ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সব ওয়ার্ডে শুরু হয়নি। প্রথম দিন ইউনিয়ন ও পৌরসভার যেসব ওয়ার্ড বাদ পড়েছে ৮ ও ৯ আগস্ট ওই ওয়ার্ডগুলোতে টিকাদান চলবে। ৭ থেকে ৯ আগস্ট সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকবে। ৮ ও ৯ আগস্ট দুর্গম/প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোভিড ১৯ টিকা দেওয়া হবে। ১০ থেকে ১২ আগস্ট রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যাদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি তাদের দেওয়া হবে। এভাবেই এক সপ্তাহ ঠিক রাখা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য শনিবার শুরু হয় গণটিকা কার্যক্রম। দেশব্যাপী চার ধাপে ৬ দিন পরিচালিত এ কর্মসূচিতে ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রথম দিনেই ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৭২ জন টিকা গ্রহণ করেন। দ্বিতীয় দিন রোববার আরও ৫ লাখের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছেন। অর্থাৎ দুদিনেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ পূর্ব ঘোষণা অনুসারে টিকাদান অব্যাহত থাকবে। তবে বাকি দিনগুলোতে কি পরিমাণ টিকা দেওয়া হবে সে বিষয়ে সুষ্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা।

তারা জানান, সিটি করপোরেশন এলাকায় শুধু আজ সোমবার ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদান চলবে। এক্ষেত্রে মডার্নার দ্বিতীয় ডোজের জন্য নির্ধারিত টিকার অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হবে। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা এবং দুর্গম অঞ্চলে আজকের দিনটিই বাকি আছে। এক্ষেত্রে চীনের সিনোফার্মের টিকা নিয়মানুযায়ী দেওয়া হবে। এছাড়া ১০ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যাদের বয়স ৫৫ বছরের বেশি তাদের দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত যে মজুত আছে তা দিয়েই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমরা জনগণের অংশগ্রহণ দেখে অভিভূত। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাত্র দুদিনেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। গত দুদিনে যারা টিকা পাননি তারা টিকা পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায়ে গণটিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে কেন্দ্রগুলোতে বরাদ্দ টিকার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ আসায় অনেককে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। দ্বিতীয় দিনে সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কর্মসূচি চলছে, এছাড়া প্রথম দিন যেসব এলাকায় টিকা দেওয়া যায়নি সেসব এলাকার মানুষও রোববার টিকা পেয়েছেন। ছয় দিনে ৩২ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ টিকা দিতে শনিবার সকালে দেশজুড়ে সম্প্রসারিত এ গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। তবে যে পরিমাণ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ৬ দিনে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ টিকার প্রথম ডোজের আওতায় আসবেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা।

কোভিড-১৯ টিকা বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, যে টার্গেট ছিল সেটি ৩৫ লাখের উপরে চলে যাবে। ডা. শামসুল হক বলেন, প্রত্যেক এলাকা যেন টাচে আসে সে চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। অনেক বড় এলাকা আছে যেগুলো রোববার কাভার হয়নি-আবার বরিশাল, খুলনা, কক্সবাজার এলাকায় প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে। তাদের জন্য আমরা অপশন রেখেছি। শামসুল হক বলেন, হেলিকপ্টারে আমরা আগামীকাল একেবারে প্রত্যন্ত এলাকায় টিকা পাঠাব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৫৬ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট জনগোষ্ঠীর ৮০ শতাংশ, যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি। এ পর্যন্ত নিবন্ধনের আওতায় এসেছেন দুই কোটি ৯৫ লাখ ৮ হাজার ৮০৮ জন। এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১ কোটি ৩০ লাখ ৭২ হাজার ৭২ হাজার ৯৬৭ জন। এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩১৫ জন।

কোভিড মহামারিতে আক্রান্ত ও মৃত্যু ঠেকাতে ১৪ কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে টিকা পেয়েছেন পৌনে দুই কোটির বেশি মানুষ। ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান শুরু হলেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট চুক্তি অনুযায়ী টিকা না দেওয়ায় সেটি ব্যাহত হয়। ভারত থেকে টিকা না আসায় চীন থেকে টিকা কিনছে সরকার। পাশাপাশি টিকা সরবরাহের বৈশ্বিক প্ল্যাটফরম কোভ্যাক্স থেকেও আসছে। বর্তমানে দেশে মডার্না ও সিনোফার্মার পাশাপাশি দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের কেনা, উপহার পাওয়া এবং কোভ্যাক্সের মাধ্যমে পাওয়া টিকা মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ টিকা। নতুন করে টিকা আসতে থাকায় বড় পরিসরে ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন করে বিরাট জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতেই পরীক্ষামূলক ধাপ হিসাবে এবার ৬ দিনের এ টিকা কর্মসূচি চলছে। সূত্রঃ যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here