নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের সবারই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি সব রোগীরই শরীরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক ডা. হুসেইন ইমাম।

তিনি বলেন, দগ্ধ সব রোগীর শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। তাদের শরীরের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। আহত রোগীদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত রোগীদের জন্য একটা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসেছিলেন। সবার চিকিৎসা চলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায়। রোগীদের মধ্যে কে কোন অবস্থায় আছে এটি কাল নাগাদ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে। তবে কেউ শঙ্কামুক্ত নন।’

এদিকে ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাত বছরের জুয়েলের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জুয়েল রাত ১১টার দিকে মারা যায়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

অন্যদিকে ওই মসজিদে যে বিস্ফোরণ হয়েছে তা এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ নাকি গ্যাস লিকেজ থেকে হয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, তারা মসজিদে ঘটনার পর গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে পরিমাপ করেছেন। প্রায় ৭০ ভাগ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে মসজিদের ভেতরে। এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিস্ফোরণের কারণ নির্ণয় করবেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর তল্লা এলাকায় একটি মসজিদে একসাথে ছয়টি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জন মুসল্লির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here