ভারতীয় সেনারা লাদাখের প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) অবৈধভাবে অতিক্রম করে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চীন। সোমবার রাতে দেশটির পিপল’স লিবারেশন আর্মির এক মুখপাত্র দাবি করেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চীনের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। তবে স্পষ্ট করা হয়নি এই পাল্টা পদক্ষেপ কী ছিলো। আর ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা চলছে। পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মধ্যে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনের সম্মতিতে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, চীন ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের রাশিয়ার মস্কোতে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার রাতে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ভারতীয় সেনারা প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীর এবং শেনপাও পার্বত্য এলাকায় ঢুকে পড়ে চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র অভিযোগ করেন। পিপল’স লিবারেশন আর্মির পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র সিনিয়র কর্নেল ঝ্যাং সুইলি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভারতীয় বাহিনী অভিযানকালে চীনের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর টহল দলের ওপর মারাত্মক হুমকিমূলক গুলি বর্ষণ করে এবং মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে চীনা বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।’ ওই বিবৃতিতে ভারতের এই আচরণকে খুবই বাজে ধরণের মারাত্মক উস্কানি আখ্যা দিয়ে বলা হয়, ‘মারাত্মক বিপদজনক পদক্ষেপ এখনই বন্ধ করার অনুরোধ আমরা ভারতীয় পক্ষকে জানাচ্ছি।’

গত দুই সপ্তাহে চীনা সেনাবাহিনী অন্তত দুইবার প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীরে উস্কানিমূলক কাজে জড়িত থেকেছে বলে ভারতের দাবি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নিয়ন্ত্রণ রেখার স্থিতাবস্থা বদলে দেওয়ার একক প্রচেষ্টা থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়  ভারত। এতে বলা হয়, দুই দেশের সেনাদের মধ্যে এসব ঘটনার সময়ে কোনও শারিরীক সংঘাতও হয়নি।

ভারতের দাবি সর্বশেষ চীনা বাহিনী গত ৩১ আগস্ট দিনের বেলা এক অভিযানের সময়ে ভারতীয় সেনা সদস্যদের ঘিরে ফেলে। ভারতীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রিত পার্বত্য এলাকায় চীনা বাহিনী নিজেদের অবস্থান ফিরে পেতে চেষ্টা চালাতে গিয়ে ওই ঘটনা ঘটায়। ওই সময়ে দুই দেশের মাঠ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তারা চীনা বাহিনীকে থেমে যাওয়ার সতর্ক বার্তা দিয়ে আলোচনায় বসে। দুই দেশের সেনা সদস্যদের উত্তেজনা নিরসনে তখনই নিজ নিজ অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে চীনা বাহিনী গত ২৯ আগস্ট রাতে আরও একবার উস্কানিমূলক আচরণ করে বলে দাবি করে ভারত। চীন বিপুল সেনা মোতায়েন করে প্যাংগন লেকের দক্ষিণ তীরে সেখানকার পশ্চিমাঞ্চল দখলের চেষ্টা চালায়।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন ভারত ও চীনের সেনা সদস্যরা লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতে জড়ায়। এতে অন্তত ২০ সেনা নিহত হয় ভারতের। তবে চীনের তরফ থেকে কোনো হতাহতের কথা জানানো হয়নি। ওই সংঘাতের পর ভারত ও চীন জুলাই মাসে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সম্মত হয়। তবে এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি সেই প্রক্রিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here