জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। দুই যুগ পার হলেও এখন পর্যন্ত খোলেনি মৃত্যুর রহস্যজট। ‘হত্যা, নাকি আত্মহত্যা’—এই প্রশ্নতেই বারবার আটকে যাচ্ছে মামলার বিচারকাজ। পাঁচ কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও তা মানতে রাজি নয় তাঁর মা। বর্তমানে মামলাটির পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণের উপর শুনানির জন্য আগামী ১১ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আজ রবিবার সারাদেশে পালিত হচ্ছে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী।

এ পর্যন্ত তিনবার তদন্ত হয়েছে সালমান শাহর মৃত্যুর মামলাটি। এর মধ্যে সর্বশেষ পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেন। পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদার ২৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার হননি জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদার প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে ঘটনাসংশ্লিষ্ট আলামত। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

সালমান শাহর আত্মহত্যার পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো চিত্রনায়িকা শাবনূরের সাথে সালমানের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা, স্ত্রী সামিরার সাথে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্যজীবনে অপূর্ণতা এবং মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সর্ম্পকের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেওয়া।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে সময় প্রথমে এ ব্যাপারে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ এনে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি। পরবর্তীতে অভিযোগের বিষয়টি সিআইডিকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী  সিআইডির এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন। পরে মামলাটি ২০০৩ সালের ১৯ মে বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here