অনলাইন ডেস্কঃ ইউক্রেন সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দেশটিতে যুদ্ধ প্রতিরোধ বা শেষ করতে ব্যর্থতার জন্য তার নিজের সংস্থারই নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সফরের শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলো পরিদর্শন করেন। তিনি এসময় যুদ্ধের নিন্দা করে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘একুশ শতকে অবাস্তব’ আখ্যা দেন।গুতেরেস তখন গণহত্যার অভিযোগ তদন্তে সহায়তার জন্য রাশিয়ার প্রতি সহযোগিতার আহ্বানও জানান।

আন্তোনিও গুতেরেস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাকে খুব স্পষ্ট করে বলতে দিন- নিরাপত্তা পরিষদ এই যুদ্ধ প্রতিরোধ ও শেষ করার জন্য তার ক্ষমতার সবকিছু করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি গভীর হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে আমরা জাতিসংঘের নারী ও পুরুষ কর্মীরা অনেক সাহসী ইউক্রেনীয় সংগঠনের পাশাপাশি দেশটির জনগণের জন্য প্রতিদিন কাজ করছি। ’

গুতেরেস জানান, মারিউপোল থেকে আটকাপড়া মানুষদের সরিয়ে আনাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস আবারও বলেন, রাশিয়ার আক্রমণ ইউক্রেনের ভূখণ্ড এবং জাতিসংঘের সনদ উভয়েরই ‘লঙ্ঘন’। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে যে আলোচনা করেছেন তার একটি প্রধান বিষয় হচ্ছে রাশিয়া কর্তৃক ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’।

কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও জাতিসংঘ মহাসচিবের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের সময়ই কিয়েভে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বিদ্রুপ করে বলেছেন, মঙ্গলবারই পুতিন-গুতেরেস বৈঠকের পর ‘এটি রাশিয়ার পক্ষ থেকে পোস্টকার্ড’।

’জাতিসংঘ হাল ছাড়বে না’

কিয়েভে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জাতিসংঘ হাল ছাড়বে না। তিনি ‘জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী’ ইউক্রেনে শান্তি চান।

রাশিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গুতেরেস বলেন, ‘পারমাণবিক যুদ্ধ অচিন্তনীয়’। সূত্রঃ কালেরকণ্ঠ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here