অনলাইন ডেস্কঃ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিজয় অর্জনে তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া। এ লক্ষ্যে দনবাস অঞ্চলে নতুন করে শুরু করা অভিযানে প্রায় ২০ হাজার ভাড়াটে যোদ্ধা মোতায়েন করেছে ক্রেমলিন। সিরিয়া, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তাঁদের সেখানে জড়ো করা হয়েছে। কোনো ধরনের ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সাঁজোয়া যান ছাড়াই তাঁদের যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। ইউরোপীয় এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান এসব কথা জানিয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পূর্ব ইউক্রেনে মোতায়েন করা ভাড়াটে যোদ্ধার সংখ্যা ১০ থেকে ২০ হাজার হতে পারে। তাঁদের মধ্যে কতজন সিরিয়া, লিবিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে এসেছেন, তা আলাদা করে বলা কঠিন। রাশিয়ার মার্চেনারি কোম্পানি ‘ওয়াগনার গ্রুপ’ তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে। ইউক্রেনের সেনাদের প্রতিরোধের বিরুদ্ধে তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে। তাঁরা মূলত পদাতিক। তাঁদের তেমন কোনো সরঞ্জাম ও সাঁজোয়া যান নেই।

পশ্চিমা প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনে বিজয় ঘোষণার মতো কিছু অর্জনের জন্য ক্রেমলিন তাড়াহুড়া করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আগামী ৯ মে মস্কোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কুচকাওয়াজে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেটা ঘোষণা দিতে চান। ইউরোপীয় এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের দ্বিতীয় ধাপে রাশিয়ার লক্ষ্য চারটি। দনবাস দখল, ক্রিমিয়ার সঙ্গে স্থল সংযোগ স্থাপন, ক্রিমিয়ায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে খেরসন প্রশাসনিক অঞ্চল দখল এবং অতিরিক্ত ভূখণ্ড দখল—যাতে তা দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

মারিউপোলে এখনো অবরুদ্ধ ইউক্রেনের সেনারা

বিবিসির খবর, ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিউপোলের আজভস্তাল ইস্পাত কারখানায় অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, এ সময়ের মধ্যে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।এর আগে গত রোববার মারিউপোলে অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল রাশিয়া। তবে তাতে সাড়া দেয়নি ইউক্রেন। ইউক্রেনের পূর্ব দিকে রাশিয়া–নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের মধ্যে মারিউপোলের অবস্থান। এর দক্ষিণে ক্রিমিয়া। এই শহরটি কৌশলগতভাবে রাশিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে শহরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রুশ বাহিনী।

বিবিসি জানিয়েছে, মারিউপোলে অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় মেজর শেরহি ভলিনা এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, তিনি ও তাঁর সেনারা হয়তো জীবনের শেষ দিন কাটাচ্ছেন। তবে তাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাঁদের উদ্ধারে সহায়তা চেয়েছেন এই সেনা কর্মকর্তা।

মারিউপোলের পরিস্থিতি নিয়ে ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক বলেছেন, শহরটি থেকে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নিতে নিরাপদ মানবিক করিডর চালু করতে সম্মত হয়েছে মস্কো ও কিয়েভ। অন্যদিকে মারিউপোলের মেয়র ভাদিম বোয়েশেঙ্কো এক বিবৃতিতে স্থানীয় লোকজনকে শহরটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে অনুরোধ করেছেন। রুশপন্থী দোনেৎস্ক রিপাবলিকের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার পাঁচজন ইউক্রেনীয় সেনাসহ ১৪০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ মারিউপোল ছেড়েছেন।

যুদ্ধবিমান পেয়েছে ইউক্রেন

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতভর ইউক্রেনের ১ হাজার ৫৩টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। পূর্ব ইউক্রেনের ক্রেমিন্না শহর দখলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্রেমলিন। দনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনীর নতুন ধাপের অভিযান শুরুর পর এটিই তাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া প্রথম শহর। সূত্রঃ প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here