অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানীর কলাবাগান তেঁতুলতলা মাঠে থানা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে শিশু-কিশোরদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার, পরিবেশ আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। বুধবার (২৭ এপ্রিল) আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সমাবেশের পর মাঠের সীমানা ঘেঁষে ১৪টি দেশীয় গাছ রোপণ করেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন তারা।

প্রতিবাদ সমাবেশে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘যারা এখানে খেলে, যারা এ মাঠের প্রকৃত মালিক; তারা এখানে আছে। তারা প্রতিবাদ করছে মাঠ কেন দখল করা হচ্ছে?’ বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথাবার্তা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকে তেঁতুলতলা নামে একটি মাঠ রয়েছে। এই মাঠে কলাবাগান থানার স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ করছেন।

মাঠটিতে স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করে। পাশাপাশি মাঠটিতে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান হয়। রবিবার সকালে ওই মাঠে ইট-সুরকি ফেলা হলে সেখানে গিয়ে ফেসবুকে লাইভ করেন সৈয়দা রত্না। একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তার ছেলে বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এলে তাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুইজনের আটকের খবর পেয়ে বেলা দুইটার দিকে ওই মাঠে যান মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ (বেলা) সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, উদীচীর ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আরিফ নূরসহ কয়েকজন। পরে রাতে মা–ছেলের মুক্তির দাবিতে কলাবাগান থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, মানবাধিকারকর্মী ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নেতা–কর্মীরা। সৈয়দা রত্না উদীচীর সদস্য।
বিক্ষোভের মুখে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মা–ছেলেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সৈয়দা রত্নার ছেলে আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সূত্রঃ ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here