অনলাইন ডেস্কঃ মৎস্য  ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, চাষের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। এ খাত বাংলাদেশে স্বর্ণালী অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২১ উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় মৎস অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- আমার আছে খাল-বিল আর মাছ।  সোনার বাংলা গড়তে মৎস্য খাত বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাছ চাষে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন। যার ফলে এ খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। দিন দিন মাছ উৎপাদন বাড়ছে। জেলেদের সহায়তা থেকে শুরু করে মাছ চাষে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব কিছু প্রদান করছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের মোট রফতানি আয়ের ১.৩৯ শতাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে।  এ খাতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.১০ শতাংশ। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রায় ২ কোটি জনগোষ্ঠী (১২ শতাংশের বেশি) মৎস্য খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।

তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট মৎস্য উৎপাদন হয়েছে ৪৫ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তজাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃত। বিশ্বে অভ্যান্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম, ইলিশ উৎপাদনে প্রথম এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ।

মন্ত্রী বলেন, ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে মৎস্য সপ্তাহ শুরু হয়েছে।  যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক সপ্তাহটি পালন করা হবে। এবারের মৎস্য সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি।’ এ সময় তিনি জানান, মৎস্য সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন রোববার রাজধানীর ওসমানী ম্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২১ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে তিনি জাতীয় সংসদের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন।

যুগান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাছ উৎপাদন এবং ফিশ ফিড তৈরিতে অসাধু ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাছ উত্তোলন, জাটকা নিধন প্রতিরোধে নৌপুলিশসহ সার্বিকভাবে বিভিন্ন কৌশলে অপরাধীদের প্রতিহত করা হচ্ছে। ভেজাল ফিড তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে- যথাযথ নিয়মের বাইরে মাছ চাষ এবং ফিড তৈরি করলে অসাধু ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে।

আপাতত ইলিশ মাছ রফতানির কোনো চিন্তাভাবনা নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দেশের মানুষ যেন কম দামে খুব সহজে ইলিশ মাছ খেতে পারে। আমরা এখন রফতানি না করলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে ইলিশ মাছ পাঠানো হচ্ছে।

মৎস্য  ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনব না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। করোনায় সৃষ্ট বেকারদের পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমাদের মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব লাঘব হচ্ছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে। দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল তথা হাওর অঞ্চল, পাবর্ত্য অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প নিচ্ছি। মাছকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা অভয়াশ্রম করছি। নদীতে যাতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং মাছ বেড়ে উঠতে পারে সে জন্য প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মৎস্য খাতে যারা অবদান রাখছেন, ভালো ভূমিকা রাখছেন তাদের উৎসাহিত করতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে এ বছর বিভিন্ন খাতে মৎস্য পদক প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মো. তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম, নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোঃ আতিকুল ইসলাম। সূত্রঃ যুগান্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here