আর্জেন্টিনায় তাঁর জন্ম । কিন্তু তার মনে-প্রাণে বার্সেলোনা। প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময়ের সম্পর্কটা ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলেন লিওনেল মেসি। বার্সাকে জানিয়ে দিলেন, এই ক্লাবে আর থাকছেন না তিনি। দ্রুত চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকানায় যেতে চান আর্জেন্টাইন জাদুকর।

বার্সেলোনার সাথে মেসির বর্তমানে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে। সেই চুক্তি নবায়ন করা তো পরের কথা, শেষ অব্দি থাকতেও রাজি নন মেসি।

এমনিতেই ক্লাবের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিরক্ত ছিলেন মেসি। তার সাথে যোগ হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে পরাজয়ের হতাশা।

নতুন দায়িত্ব নিয়েই কোচ রোনাল্ড কোমেন আলোচনায় বসেছিলেন মেসির সাথে। এতেও মন গলেনি এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির। তাই অপ্রত্যাশিতভাবেই শেষ হয়ে গেল ২০ বছরের মধুর সম্পর্কটা। চুক্তির একটি ধারা কাজে লাগিয়ে ফ্রি ট্রান্সফারে অন্য কোথাও যেতে চান তিনি।

গণমাধ্যম ওলে, টিওয়াইসি স্পোর্ট, মার্কা, ইএসপিএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরপর সংবাদ সংস্থা এপি’কে বার্সার পক্ষ থেকেও তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে, মেসি মেইলের মাধ্যমে ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্তটি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক আলফ্রেডো মার্টিনেজ একটি টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আজ বার্সেলোনা ভক্তদের খুব দুঃখের দিন। মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর বার্সায় থাকতে রাজি নন। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।’

তিনি অন্য একটি টুইটে লিখেন, ‘এই সপ্তাহের শেষে মেসি আর ট্রেনিং বা টেস্টে অংশ নেবেন না। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।’

‘মার্কা’ লিখেছে, ‘লিও মেসি ফুটবল ক্লাব বার্সা ছাড়তে চান। বিস্ময় ছাড়া এই বাক্যটা লিখাও কঠিন।’

মেসির সাবেক সতীর্থ কার্লোস পুয়োল এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, ‘লিও, তোমার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা। সবসময় সমর্থন থাকবে, বন্ধু!’ তার টুইটের রিপ্লাইয়ে হাততালির ইমোজি দিয়েছেন লুইস সুয়ারেজ, যাকে আজ ফোন করে বার্সেলোনা থেকে বিদায় জানিয়েছেন নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যান।

মেসির এমন সিদ্ধান্তের পর জরুরি মিটিংয়ে বসতে যাচ্ছেন বার্সার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেই মিটিংয়েই মেসির চুক্তি ও আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

তবে মেসির বার্সা ছাড়ার ক্ষেত্রে একটি আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিবিসি।

কারণ চুক্তি অনুযায়ী, গত ১০ জুনের মধ্যে মেসি তার ক্লাব ছাড়ার কথা জানালে তিনি বিনা ফিতে ক্লাব ছাড়ার একটি সুযোগ পেতেন।

কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে বলে চুক্তির সেই ধারা এখন কার্যকর নয় বলে ক্লাব কর্তারা দাবি করলেও মেসি ও তার আইনজীবী মনে বলছেন, কোভিড-১৯ সঙ্কটে ফুটবল মৌসুম দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সেই শর্তের কার্যকারিতা ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত বাড়বে।

লিনেকার বলছেন, “মেসি যদি রিলিজ ক্লজ সক্রিয় করে বার্সা ছাড়তে চায়, তাহলে আমি আশা করি বার্সা তাকে সাহায্য করবে, বাধা দেবে না। মেসি ভীষণ অনুগত এবং বার্সার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। মেসি এবং বার্সার লড়াই দিয়ে যদি এই সম্পর্ক শেষ হয়, সেটা হবে খুবই দুঃখের।”

এখন বার্সা ও মেসির আইনজীবীর দর কষাকষিতেই ঠিক হবে, এই আর্জেন্টাইন জাদুকরের বার্সা থেকে প্রস্থান কেমন হবে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের জুলাইয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সার সাথে চুক্তি হয় লিওনেল মেসির। সেই সময় থেকে বার্সার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই ছিলেন। অনেকবার গুঞ্জন উঠলেও বার্সা ছাড়ার মত পরিস্থিতি কখনো হয়নি। কিন্তু এবার হয়েই গেলো!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here