অনলাইন ডেস্কঃ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর (টিআইএন) সংখ্যা পৌনে এক কোটি ছাড়াল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার টিআইএনধারীর সংখ্যা ৭৫ লাখের ঘর স্পর্শ করে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশের মোট টিআইএনধারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ লাখ ৯ হাজার ৮০১। তাঁরা সবাই এনবিআরের নিবন্ধিত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা।

গত সাড়ে তিন বছরে টিআইএনধারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৪০ লাখ নতুন টিআইএনধারী নিবন্ধিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মোট ৩৬ লাখ টিআইএনধারী ছিল। গত ৪ বছরে প্রতিবছর ১২-১৩ লাখ নতুন করদাতা পাওয়া গেছে। কয়েক বছর আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের টিআইএন নেওয়া এবং রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করার পর দ্রুত টিআইএনধারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

সর্বশেষ হিসাবে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ২৬ লাখ টিআইএনধারী বার্ষিক আয়-ব্যয়ের বিবরণ জানিয়ে রিটার্ন জমা দেন। এক-তৃতীয়াংশ টিআইএনধারী রিটার্ন দেন। শুধু জমি কেনা ও ক্রেডিট কার্ডের জন্য টিআইএন নেওয়া হয়েছে, এমন টিআইএনধারী ছাড়া সবার রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বাস্তবে প্রায় অর্ধকোটি টিআইএনধারী বছর শেষে রিটার্ন জমা দেন না।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, টিআইএনধারীর সংখ্যা পৌনে এক কোটিতে উন্নীত হওয়ার খবরটি অবশ্য ভালো। সবার কাছ থেকে রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে না। এর সহজ উত্তর হলো, পরিস্থিতির কারণে এনবিআরের যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুর্বলতা। এ জন্য রিটার্ন না দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছেন বহু টিআইএনধারী। কারা রিটার্ন দিল না, তা কখনো যাচাই করে না এনবিআর।

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আরও বলেন, এখন অনেক সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু টিআইএন সনদ চাওয়া হয়। কিন্তু সেবাপ্রার্থী কত টাকা কর দিয়েছেন, তা জানতে চাইলে রিটার্ন জমা বাড়ত, ফাঁকিবাজিও কমে যেত।

কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকারি বিভিন্ন কাজে এখন টিআইএন প্রয়োজন হয়। তাই অনেকেই টিআইএন নিয়ে থাকে। পরে আর রিটার্ন জমা দেন না। এই প্রবণতা শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নিবন্ধিত করদাতাদের সবাই রিটার্ন দেন না। বাংলাদেশে টিআইএন নেওয়া বেশ সহজ। যখনই সরকারি কোনো কাজে টিআইএন দরকার হয়, তখন যে কেউ ঘরে বসেই টিআইএন নিতে পারেন। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই হলো। টিআইএন নিতে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই অবশ্য বাংলাদেশের করদাতারা বেশি রিটার্ন দেন। সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের দেড় কোটির বেশি করদাতা রিটার্ন দেন। অন্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ২৫ লাখ, শ্রীলঙ্কায় ১৫ লাখ, নেপালে ২২ লাখ ও ভুটানে ৮৮ হাজার করদাতা রিটার্ন দেন। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে রিটার্নদাতার সংখ্যা বেশ কম। সূত্রঃ প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here