নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর তল্লা এলাকায় একটি মসজিদে একসাথে ছয়টি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে পনেরো থেকে বিশজন মুসল্লি গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন অনেকে।

শুক্রবার রাতে এশার নামাজ চলাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা বাইতুস সালাম মসজিদে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের জনমনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, মসজিদের ভিতর থাকা ৬টি এয়ার কন্ডিশনার একসাথে কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি এয়ার কন্ডিশনার একইভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে। প্রত্যেকটি এয়ার কন্ডিশনারের সামনের দিক দুমড়ে মুচড়ে গেছে এবং যন্ত্রপাতি ভিতর থেকে বের হয়ে এসেছে।

স্থানীয়রা বলেন, কোন সমস্যার কারণে যে কোন একটি এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ হতে পারে। কিন্তু একসঙ্গে ছয়টি এয়ার কন্ডিশনার কিভাবে একসাথে বিস্ফোরণ ঘটলো। মসজিদের ভিতর গ্যাসের লিকেজ ছিল। যদি সেই লিকেজ থেকে কোন বিস্ফোরণ ঘটতো তাহলে মসজিদের মেঝে ভেঙে যেতো। সে রকম কিছু ঘটেনি। কিন্তু এয়ার কন্ডিশনার গুলো দুমড়ে মুচড়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে একটি বিস্ফোরণের শব্দ আশেপাশের মানুষ শুনতে পেয়েছে। সেহেতু মসজিদের ভিতর থাকা ৬টি এয়ার কন্ডিশনার একসঙ্গে কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো সেই হিসাবে কেউ মেলাতে পারছেন না।

মসজিদের ভেতর থাকা ৬ এয়ার কন্ডিশনার, দুমড়ে মুচড়ে গেছে। কেউ যেন হাত দিয়ে সিলিং ফ্যানগুলো বাঁকা করে দিয়েছে। ভেঙে গেছে জানালার সব কাঁচ। ভিতরে থাকা থাই গ্লাসগুলো ভেঙ্গে চুরমার।  কোথাও কোথাও আহত মুসল্লিদের শরীরের পোড়া চামড়া লেগে আছে মসজিদের মেঝেতে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে পুরো মসজিদের ভিতর।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, সম্পূর্ণ মসজিদটি এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে সিআইডি কল করা হয়েছে। তারা আলমত সংগ্রহ করবে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিবি ওসি ও ডিআইওয়ানকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা সহযোগিতায় পুলিশের টিম কাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here