অনলাইন ডেস্কঃ ‘দুই মাস মাঠে খেলতে পারিনি। মাঠে এলে পুলিশ আমাদের ফিরিয়ে দিত। দূরের কোনো মাঠে খেলতে যেতে পারতাম না। বাসায় বসে থেকে বিরক্ত হতাম। এখান মাঠ ফিরে পেয়েছি। আবার খেলতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে দুই দলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলছিল শিশু-কিশোরেরা। খেলার ফাঁকে প্রথম আলোকে কথাগুলো বলছিল বিপ্লব রহমান নামের এক কিশোর। সে স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে।

বেলা ১১টার দিকে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, শিশু-কিশোরদের ফুটবল খেলা চলছে। ইট দিয়ে মাঠে গোলবার বানিয়ে খেলছিল ১০-১২টি শিশু-কিশোর। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা। মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের।

এ মাঠ রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সৈয়দা রত্না বলেন, ‘কারও মালিকানায় না রেখে মাঠটি স্বতন্ত্র থাকুক। যুগ যুগ ধরে মাঠটি টিকে থাকুক।’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, ‘মাঠটি দখল হয়ে যাওয়ার পর ছেলেগুলো খেলাধুলা করতে পারছিল না। এখন আবার তারা মাঠে ফিরতে পেরেছে দেখে ভালো লাগছে। খেলাধুলা করতে পারলে শিশুদের শরীর-মন ভালো থাকে। তারা বিপথে যায় না।’
রফিক মিয়া আরও বলেন, মাঠে যে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে, তা ভেঙে মাঠ উন্মুক্ত করে দিলে ভালো হয়।

কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠটি স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের একটি গলিতে। এটি মূলত একটি খালি জায়গা। আয়তন ২০ শতাংশ। জায়গাটিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্তানেরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করত। এতে জানাজা, ঈদের নামাজ ও সামাজিক অনুষ্ঠান হতো।

পুলিশ জায়গাটি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকায় বরাদ্দ নিয়ে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিল।

মাঠটি রক্ষার দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এর মধ্যে গত রোববার মাঠটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না ও তাঁর কিশোর ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে ১৩ ঘণ্টা কলাবাগান থানায় আটকে রাখে। পরে প্রতিবাদের মুখে মধ্যরাতে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর প্রতিদিনই মাঠটি রক্ষার দাবিতে কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। সূত্রঃ প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here