অনলাইন ডেস্কঃ গরমে ডাবরে পানি উপকারী এ জন্য যে এতে কোনো কৃত্রিম রং, প্রিজারভেটিভ, ফ্লেভার নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পানীয়। যা পান করলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় প্রশান্তি পাওয়া যায়। গ্রীষ্মকালে শরীরে ঘামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যায়। এতে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে। এমন পরিস্থিতিতে স্বস্তি এনে দিতে পারে ডাবের পানি। শুধু ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা নয়, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলাসহ ডাবের পানিতে আছে আরো অনেক গুণ।

  • ত্বকের ইনফেকশন ও অন্যান্য সমস্যায় ডাবের পানির ব্যবহার বেশ প্রচলিত। ডাবের পানিতে আছে অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ। এ ছাড়া ডাবের পানি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে।
  • ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ করতে ডাবের পানি অনেক বেশি কার্যকরী। এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ভিটামিন সি, যা ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  • হাড়কে মজবুত রাখার জন্য যে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়, তা ডাবের পানিতে পাওয়া যায়। এ ছাড়া আছে ম্যাগনেসিয়াম, যা হাড়কে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  • যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তারা ডাবের পানি তুলায় ভিজিয়ে ত্বকের উপর লাগাতে পারেন। তৈলাক্ত বা শুষ্ক যে কোনো ত্বকেই ব্যবহার করতে পারেন এই পানি। ডাবের পানি খেলে মুখের ত্বক আদ্র হয়। পাশপাশি বেশ সতেজও দেখায়। তাছাড়া ডাবের শাঁসে যে ক্যালরি থাকে, তা কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।
  • অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীরে ঘামের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যায়। আবার কখনও গরমে বমির ফলেও শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যায় ডাবে থাকা কার্বোহাইড্রেড শক্তি বাড়ায় এবং শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ করে।
  • ডাবের পানিতে যে প্রাকৃতিক শর্করা ও মিনারেল রয়েছে তা শরীরকে শীতল ও আর্দ্র রাখে। এ জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের স্যালাইনের বিকল্প হিসেবে ডাবের পানি দেওয়া হতো। এর ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফাইবার কর্মশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ডাবের পানি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং ক্ষুধার প্রবণতা কমে আসে। ফলে কম খাওয়া হয়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। ডাবের পানিতে কোনো চর্বি নেই, বরং এটি শরীরের অতিরিক্ত চিনি শোষণ করে। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • ডাবের পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে গরমের সময়ও শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে।
  • ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া নিয়মিত ডাবের পানি খেলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। রমজানে ইফতারে ডাবের পানি পান করার চেষ্টা করবেন।
  • ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাদের জন্যও ডাবের পানি খুব উপকারী। আর ডাবের পানিতে আছে ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্টই শুধু করে না, পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে। সূত্রঃ ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here