অনলাইন ডেস্কঃ হাঁটলে উপকার পাওয়া যায়, এটা কমবেশি সবারই জানা। নিয়ম করে হাঁটার অভ্যাস করলে অনেক রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে ওজন কমাতে, ফিটনেস বাড়াতে যেভাবে হাঁটতে হবে, রোগে বা শোকে তো সেভাবে হাঁটলে হবে না। পেশিতে ব্যথা থাকলে যে ভাবে হাঁটবেন, পেশি গঠন করতে চাইলে হাঁটতে হবে আলাদা ভাবে। কম বয়সে যেভাবে হাঁটবেন, বেশি বয়সে সেভাবে হাঁটা যাবে না। গর্ভবতীকে হাঁটতে হবে অন্যভাবে। স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর হাঁটা আবার একেবারে ভিন্ন। তাহলে জেনে নিন কোন সমস্যায় কীভাবে হাঁটতে হবে।

  • ভুঁড়ি কমাতে সকালে খালিপেটে জোর পায়ে হাঁটুন অন্তত ২০-২৫ মিনিট। ১২-১৪ ঘণ্টা খালিপেটে থাকলে শরীরে গ্লুকোজের স্টোর তলানিতে চলে যায়। তখন হাঁটার এনার্জি দেয় ফ্যাট। কাজেই ফ্যাট কমাতে চাইলে খালিপেটে হাঁটার বিকল্প নেই। তবে ওজন খুব বেশি হলে ও হাঁটু-কোমরের অবস্থা খারাপ হলে আগে ডায়েট করে ২-৪ কেজি কমিয়ে নিতে হবে।
  • ক্যালরি ঝরাতে, ফিটনেস বাড়াতে, উচ্চ রক্তচাপ-রক্তে বেশি শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের প্রকোপ কমাতে যেকোনো সময় হাঁটতে পারেন। যখনই হাঁটবেন অবশ্যই জোর কদমে ২০-২৫ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন।
  • শরীর গঠন করতে চাইলে ব্রিস্ক ওয়াকিংয়ের বিকল্প নেই। খালি পেটে করলে ফ্যাটও ঝড়বে। ফিটনেস থাকলে দৌড়তে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং করলে। এতে ওয়ার্মআপ করার পর দুই থেকে পাঁচ মিনিট দৌড়ে এক মিনিট আস্তে হাঁটুন। ২৫-৩০ মিনিটের সেশনে বেশ কয়েক বার এ রকম করতে পারেন। এতে ক্যালরি বেশি ঝড়ে। পেশি ভালো ভাবে গঠিত হয়। কারণ হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় পুরো শরীরের ভার নিয়ে ব্যায়াম হয় বলে ওজন নিয়ে ব্যায়ামের মতো সুফল পাওয়া যায়, যাকে বলে বডি ওয়েট ট্রেনিং। এরপর কুলডাউন করবেন আস্তে হেঁটে। তারপর হালকা স্ট্রেচিং।
  • হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে চাইলে এমন গতিতে টানা ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে, যেন হাঁপিয়ে গেলেও কথা বলা যায়, কিন্তু গান গাওয়া যায় না। ঠাণ্ডার মধ্যেও অল্প ঘাম হয়।
  • হার্ট ও ফুসফুসের অসুখ থাকলে যতটুকু রাস্তা, যে গতিতে হাঁটলে কষ্ট হয় না, ততটুকুই হাঁটবেন। সপ্তাহে কম করে ১৫০ মিনিটের যে টার্গেট সচরাচর থাকে, অর্থাৎ ৫ দিন, ৩০ মিনিট করে, সেটা নিজের সুবিধেমতো রুটিন করে নিন। শরীর বুঝে ৮-১০ মিনিট করে দিনে দুবার হাঁটুন। প্রয়োজনে ৫ দিনের বদলে ৭ দিন হাঁটুন। হাঁটু-কোমরের ব্যথা বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলেও একই নিয়ম।
  • পেশির ব্যথায় হাঁটুন সকালের রোদে। ভিটামিন ডি কাজ করবে ম্যাজিকের মতো।
  • মানসিক চাপ, টেনশন, মাথাব্যথা, অনিদ্রা কমাতে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের মধ্যে হাঁটুন। পরিবেশ সুন্দর হলে বেশি উপকৃত হবেন। মন হালকা করে এমন মিউজিক শুনতে পারেন। সন্ধ্যায় বা রাতের খাবারের পরও হাঁটতে পারেন।
  • স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও ভোরের বা সন্ধ্যার হাঁটা খুব কার্যকর।  নিরাপদ জায়গা দেখে পিছনে হাঁটতে পারেন। এমনকি পাশেও হাঁটতে পারেন। এতে অনভ্যস্ত মস্তিষ্কের নতুন রকমের ট্রেনিং হয় এবং তার কার্যকারিতা বাড়ে। স্মৃতিশক্তি কমার হার কমে যায়।
  • পেছনে ও পাশে হাঁটলে পায়ের ও হিপের সেসব পেশির ব্যায়াম হয়, শুধু সামনে হাঁটলে যা অব্যবহৃত থাকে। এতে পেশির কার্যকারিতা বাড়ে, বাড়ে ক্যালরি খরচের হার। ব্যালেন্সের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে সতর্কতা ও সচেতনতা। হাঁটু-কোমরে ব্যথা থাকলেও এ ভাবে হাঁটলে উপকার পাবেন।
  • গর্ভবতী ও নতুন মা হোচট খাওয়ার বা পিছলে পড়ার আশঙ্কা নেই এমন জায়গায় মাঝারি গতিতে হাঁটতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে যতটুকু শরীরে দেয়, ঠিক ততটুকু। বয়স্ক ও অসুখ-বিসুখে জর্জরিত মানুষের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। সূত্রঃ ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here