অনলাইন ডেস্কঃ স্ত্রীর ক্যানসার। চিকিৎসা চলছে। ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে কলম্বোর ফার্মেসিগুলোতে ঘুরছেন দাউদ মোহাম্মদ গনি (৬৩)। একাধিক দোকান ঘুরেও স্ত্রীর জন্য জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর মতোই অবস্থা শ্রীলঙ্কার বহু মানুষের। দেশটির খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যক পণ্য আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তীব্র হয়েছে। তবে দেশটির স্বাস্থ্য খাতে সংকট দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না।

দাউদ মোহাম্মদ গনি বলেন, ‘এই প্রথম স্ত্রীর ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য ওষুধ খুঁজে পেলাম না। সে খুবই অসুস্থ। আমি কী করব? খুব অসহায় বোধ করছি। তবে তাঁকে বাঁচাতে আমার যা যা করা দরকার তার সবই করার চেষ্টা করব।’

শ্রীলঙ্কা প্রায় ৮৫ শতাংশ ওষুধ আমদানি করে থাকে। কিন্তু ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে কখনো এতটা দুরবস্থায় পড়েনি দেশটি। বিদ্যুৎ, জরুরি ওষুধ, খাদ্য ও জ্বালানি তেলের সংকটসহ নানা বিষয়ে বিক্ষোভ করছে দেশটির জনগণ। সেই বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, সারা দেশে হাসপাতাল এবং ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ফুরিয়ে যাচ্ছে।

কলম্বোর লেডি রিজওয়ে হসপিটালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বিরাজ জয়সিংহে বলেন, তাঁদের হাসপাতালে ছয় মাসের ওষুধ সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু তাঁদের ওষুধসংকট শুরু হয়ে গেছে।

দেশটিতে ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর দাবিতে বিরাজ জয়সিংহের মতো শত শত চিকিৎসক রাজপথে নেমেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি জরুরি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ওষুধসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সাহায্য যথেষ্ট নয়।

বিরাজ আরও বলেন, যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম একবারের ব্যবহার উপযোগী, তা এখন একাধিকবার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা।

এদিকে শ্রীলঙ্কার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ষষ্ঠ মাসে মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) জরুরি সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে আইএমএফ বলেছে, শ্রীলঙ্কার আগের ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের শর্তই পূরণে অক্ষম দেশটি। তাই নতুন করে ঋণ পেতে হলে আগের ঋণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। শ্রীলঙ্কা সরকার তার বৈদেশিক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বলেছে, তাদের বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সূত্রঃ প্রথম আলো

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here