অনলাইন ডেস্কঃ ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় দোকানকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনায় হেলমেট পরা অস্ত্রধারী যুবককে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এখন পর্যন্ত বিএনপির নেতা মকবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার ছাড়া দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।

পুলিশ বলছে, হেলমেট পরে যারা ঐ সংঘাতে জড়িয়েছিলেন, তাদের অধিকাংশই ছাত্র। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিও বিশ্লেষণ চলছে, নিশ্চিত হয়েই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হবে। এদিকে গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা মকবুল হোসেনকে গতকাল তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গত সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার দিনভর চলা এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। তাদের মধ্যে নাহিদ মিয়া নামের ১৮ বছর বয়সি এক তরুণকে রাস্তার ওপর কোপানো হয়। এলিফ্যান্ট রোডের ডাটা টেক কম্পিউটার নামের একটি দোকানের ডেলিভারি অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করতেন নাহিদ। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিত্সাধীন অবস্হায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। পরদিন রাতে তার চাচা মো. সাঈদ একটি হত্যা মামলা করেন। আর মঙ্গলবার সংঘর্ষের মধ্যে ইটের আঘাতে আহত দোকান কর্মচারী মোরসালিন চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান বৃহস্পতিবার ভোরে। এ ঘটনায় ঐ দিন রাতে হত্যা মামলা করেন তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফজলে এলাহী শনিবার সাংবাদিকদের জানান, মোরসালিন হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব তারা পেয়েছেন। আগের দিন তারা নাহিদ হত্যার তদন্তভার পান। তারা হত্যা মামলা দুটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে’ তদন্ত করছেন। হেলমেট পরে যারা অভিযান চালিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ছাত্র বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে না। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, তারা খুব শিগগিরই হত্যা মামলা তদন্তে অগ্রগতির আশা করছেন। মাঠে লোকজন কাজ করছে।

এদিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেট এলাকার দোকানকর্মীদের সংঘাতের মামলায় বিএনপির নেতা মকবুল হোসেনকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। মকবুলের মুক্তির দাবিতে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণার মধ্যে শনিবার ঢাকার আদালতে তার তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশ হয়। গত শুক্রবার গ্রেপ্তার মকবুলকে শনিবার ঢাকার আদালতে হাজির করে সাত দিনের জন্য হেফাজতে রাখার আবেদন করেন নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) হালদার অর্পিত ঠাকুর। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মো. মামুনুর রশিদ তিন দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল রহস্য উদ্ঘাটন, এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। মকবুলের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাহেল আকরাম সম্রাট, আবুল কালাম আজাদসহ আরো আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তারা বলেন, পেশায় আইনজীবী মকবুল নির্দোষ। তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। পরিস্থিতির শিকার তিনি। নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মকবুল নিজেও গ্রেফতারের আগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করছিলেন।

তবে পুলিশ বলছে, রক্তক্ষয়ী ঐ সংঘাতের ঘটনায় উসকানি ছিল মকবুলের। যে দুটি দোকানের কর্মীদের বচসাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে বড় ধরনের সংঘাত হয়, সেই দোকান দুটির মালিক মকবুল। সূত্রঃ ইত্তেফাক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here