অনলাইন ডেস্কঃ ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ক নির্ভর করছে পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের ওপর। ইউরোপীয়রা যতটুকু সম্মান দেখাতে পারবে তারা ততটুকু সম্মান পাবে এবং সম্পর্ক ততটুকু ঘনিষ্ঠ হবে। বুধবার বিকালে ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান শার্ল মিশেলের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে তিনি একথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট রায়িসি বলেন, ইউরোপীয়রা আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যকামী আচরণ থেকে নিজেদেরকে কতটুকু দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে তার ওপর নির্ভর করে ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, সারা পৃথিবী দেখেছে যে, ইরাক ও সিরিয়ায় একমাত্র যে দেশটি সত্যিকার অর্থে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে সেটি হচ্ছে ইরান। সেই যুদ্ধের প্রধান কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে আমেরিকা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত উপায়ে হত্যা করেছে জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন সরকার ও তার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপারে ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত ন্যায়সঙ্গত অবস্থান গ্রহণ করা।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধানের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা সম্পর্কেও কথা বলেন প্রেসিডেন্ট রায়িসি। তিনি বলেন, ইরান কখনোই এই সমঝোতা লঙ্ঘন করেনি এবং এখনও করছে না। আমেরিকাই একতরফাভাবে এটি থেকে বেরিয়ে গেছে এবং ইউরোপীয়রাও এই সমঝোতায় দেয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি।

আফগান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট রায়িসি বলেন, আফগানিস্তানে যাতে দেশটির জনগণের আস্থাভাজন একটি সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে এবং দেশটিতে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয় সেজন্য সবার চেষ্টা চালানো উচিত।

টেলিফোনালাপে ইরানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বলে উল্লেখ করেন শার্ল মিশেল। তিনি বলেন, ইরানের ওপর আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞা তেহরানের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সূত্র: বিডি প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here